সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কলাপাড়ায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুযোগ ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুবিধা, সম্ভাবনা এবং সম্প্রসারণের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সৌরবিদ্যুৎ সম্পর্কে জনগণের ধারণা, প্রচলিত ভুল ধারণা, সম্ভাবনা ও বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে একটি নীতিপত্র উপস্থাপন করা হয়।

সোমবার বেলা ১১টায় কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-পটুয়াখালী, প্রান্তজন, কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (CLEAN) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (BWGED)-এর যৌথ উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-পটুয়াখালীর আহ্বায়ক অমল মুখার্জী। প্রধান অতিথি ছিলেন কলাপাড়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান।

সভায় পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শেখ আব্দুর রহমান, কুয়াকাটা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোস্তফা আমিনুর রাশেদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোছেদুল আলম, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান খান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জুলহাস-উল-আজাদ, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর কলাপাড়া সমন্বয়কারী মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি মনোয়ারা বেগম এবং কলাপাড়া পৌর শহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল ইসলামসহ স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সঞ্চালনা করেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম-পটুয়াখালীর সদস্য সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

সভায় শুরুতে ‘ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সুযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক নীতিপত্র উপস্থাপন করেন প্রান্তজনের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সাইফুল্লাহ মাহমুদ।

নীতিপত্র উপস্থাপনকালে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, এ নির্ভরতার কারণে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, ভর্তুকি এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। বক্তাদের দাবি, এই অর্থ দিয়ে প্রায় ৩২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব হতো।

বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন ভবনের অব্যবহৃত ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা গেলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

সভায় সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন