রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হবে – পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি

রাজনৈতিকভাবে ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ৫৭টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা, পরিবেশ, জলবায়ু সহনশীলতা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি জড়িত।

মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব ও নতজানু নীতির কারণে বিগত সরকার ফারাক্কার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে পারেনি। বর্তমান সরকার দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কাজ করবে।

আজ রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর সদস্যসচিব প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ।

আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, বন্যা, নদীভাঙন, খরা, লবণাক্ততা ও পানি সংকট দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

নদীর পানির প্রবাহ ও বন্যার পূর্বাভাসসংক্রান্ত তথ্য বিনিময়, যৌথ গবেষণা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জ্বালানি ও আঞ্চলিক যোগাযোগসহ অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। শিগগিরই প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও কারিগরি পরামর্শক কমিটির মতামত পাওয়ার পর দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

পদ্মা ব্যারাজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং দেশব্যাপী খাল খননের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন