সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬

‘পুলিশ হবে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও জনবান্ধব’—নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আহ্বান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশকে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর হাতিয়ার হিসেবে নয়, বরং একটি নিরপেক্ষ, পেশাদার, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব।

রোববার রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ারও নির্দেশনা দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দ্রুত বাড়ছে। তাই সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অপরাধ তদন্ত এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের সময়োপযোগী সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। জনগণের বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করাই হওয়া উচিত প্রতিটি কর্মকর্তার লক্ষ্য।

বক্তব্যের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাওয়া ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান তিনি। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে নতুন কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পুলিশ একাডেমি সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করেছেন ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার। সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সম্মাননা প্রদান করেন।

এবারের প্রশিক্ষণে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া ‘বেস্ট প্রবেশনার’ এবং ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’—এই দুই বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। ‘বেস্ট একাডেমিক’ সম্মাননা পান শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং ‘বেস্ট শ্যুটার’ নির্বাচিত হন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ. বি. এম. মামুন

প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর নবীন সহকারী পুলিশ সুপারদের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করা হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন