সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬

পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে নতুন আইন, শক্তিশালী হচ্ছে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড

প্রান্তকাল প্রতিবেদন

দেশের পুঁজিবাজারকে আরও স্থিতিশীল, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে নতুন আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে, যা বর্তমানে নীতিগত যাচাই ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, অব্যবহৃত আর্থিক সম্পদের সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)-কে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য।

সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পাবে সিএমএসএফ

খসড়া আইনে সিএমএসএফকে একটি স্বতন্ত্র সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের রূপ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ফান্ডের প্রশাসনিক কাঠামো, পরিচালনা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, তদারকি, নিরীক্ষা এবং জবাবদিহির বিষয়গুলোকে সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক প্ল্যাটফর্মে নগদ লভ্যাংশ ও করসংক্রান্ত সেবা

আইনটি কার্যকর হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর নগদ লভ্যাংশ বিতরণ ব্যবস্থা আরও আধুনিক, ডিজিটাল ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

এছাড়া বিনিয়োগকারীরা একটি অর্থবছরে প্রাপ্ত লভ্যাংশের ওপর উৎসে কাটা করের চালান এবং কর কর্তন সনদ একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম থেকেই সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে করসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্বচ্ছতাও বাড়বে।

অব্যবহৃত সম্পদের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা

প্রস্তাবিত আইনে দীর্ঘদিন ধরে দাবি না করা নগদ লভ্যাংশ, বোনাস শেয়ার, রাইটস শেয়ার, আইপিও ও কোয়ালিফায়েড ইনভেস্টর অফারের (কিউআইও) ফেরতযোগ্য অর্থসহ বিভিন্ন অব্যবহৃত আর্থিক সম্পদ সিএমএসএফের আওতায় পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে এসব সম্পদের প্রকৃত মালিক বা বৈধ উত্তরাধিকারীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও যাচাই-বাছাই শেষে তাদের প্রাপ্য সম্পদ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

পরিচালনা পর্ষদ ও প্রশাসনিক কাঠামো

খসড়া অনুযায়ী, ফান্ড পরিচালনার জন্য একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে। এতে চেয়ারম্যান ছাড়াও পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে, একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ফান্ডের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

কোন খাতে ব্যয় হবে ফান্ডের অর্থ

আইনে বলা হয়েছে, সিএমএসএফের অর্থ পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত নিরাপদ খাতে বিনিয়োগের কাজে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি নিয়মিত হিসাব সংরক্ষণ, নিরীক্ষা সম্পন্ন করা, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও থাকবে।

অনিয়মে থাকবে শাস্তির বিধান

খসড়া আইনে তথ্য গোপন, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান, ফান্ড-সংশ্লিষ্ট সম্পদের অপব্যবহার কিংবা আইনের বিধান লঙ্ঘনের ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমানে কার্যকর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড) বিধিমালা, ২০২১ বাতিল করে নতুন আইন কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত আইন বাস্তবায়িত হলে অব্যবহৃত বিনিয়োগকারী সম্পদের ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। একই সঙ্গে লভ্যাংশ বিতরণ ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

এ বিষয়ে সিএমএসএফের অপারেশন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওয়াসি আজম বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে সংস্থাটি দেশের পুঁজিবাজারে একটি আধুনিক নগদ লভ্যাংশ বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারবে। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ বিতরণ আরও দক্ষ, ডিজিটাল এবং কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, একক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ-সংশ্লিষ্ট কর চালান ও কর কর্তন সনদ সহজেই সংগ্রহ করতে পারবেন, ফলে কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও সেবার মান উভয়ই উন্নত হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন