শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬

প্রক্সি পরীক্ষার জালিয়াতি: ৪৫তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ আরও তিনজন গ্রেফতার

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তাসহ তিন সরকারি চাকরিজীবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন নুরন্নবী (৫৫), মো. সোহেল (৪০) এবং জুলফিকার আলী ওরফে রায়হান (২৯)। এর মধ্যে নুরন্নবী ও মো. সোহেল চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কর অঞ্চল-২ কার্যালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। জুলফিকার আলী মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে জুনিয়র সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে সমবায় ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, কর অঞ্চল-নোয়াখালীর বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রকৃত প্রার্থীদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে লিখিত, ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। চূড়ান্ত নিয়োগের আগে প্রার্থীদের কাগজপত্র ও স্বহস্তে লেখা তথ্য যাচাইয়ের সময় কয়েকজনের হাতের লেখায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন স্বীকার করেন যে, তাদের পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় গত ২২ জুন সুধারাম মডেল থানায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও সহায়তার অভিযোগে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। শুরু থেকেই মামলাটির ছায়া তদন্ত চালিয়ে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি।

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অস্তিত্বের তথ্য পাওয়া গেছে, যারা অর্থের বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ করে বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দিত।

এই তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ জুলাই পৃথক অভিযানে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে কর অঞ্চল-২ কার্যালয় থেকে নুরন্নবী ও মো. সোহেলকে এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ি এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় জুলফিকার আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন