বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিবি পরিচয়ে যুবককে তুলে নিয়ে জিম্মি, ৫০ হাজার টাকা দাবি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে এক যুবককে তুলে নিয়ে জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী নয়ন মিয়া (২৪) বগুড়া জেলার মোকামতলা উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের পোড়াদহ (স্বর্ণগ্রাম) এলাকার দবির হোসেনের ছেলে।
অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের গজিয়াপাড়া এলাকার মাহাবুর রহমান (৫২), আলীপুর এলাকার দিলীপ চন্দ্র দাস (৪০) এবং জরিপপুর (জঙ্গলমারা) এলাকার লুটু মিয়া (৫৫)-কে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জঙ্গলমারা থেকে জরিপপুরে যাওয়ার পথে নয়ন মিয়াকে কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারধর করে ফুলপুকুরিয়া বাজারে একটি দোকানের ভেতরে আটকে রাখা হয়। এ সময় ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে নয়নের শ্বশুর জুয়েলের মোবাইল ফোনে কল করে তাকে মাদকসহ আটক করা হয়েছে বলে জানানো হয় এবং মুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।
পরবর্তীতে ৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ভুক্তভোগীর স্বজনরা নির্ধারিত স্থানে যান। অভিযোগ রয়েছে, রাত ৯টার দিকে ফুলপুকুরিয়া বাজারে পৌঁছে টাকা দিয়ে নয়নকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা নয়নকে না দিয়ে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সবাইকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়।
পরে আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় পরে নয়ন মিয়াকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর নয়ন মিয়া জানান, সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেলও নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
নয়ন আরও অভিযোগ করেন, তাকে ইয়াবা উদ্ধারের মিথ্যা অভিযোগ স্বীকার করতে বাধ্য করা হয় এবং অভিযুক্তরা নিজেদের র‍্যাব ও ডিবি সদস্য পরিচয় দিয়ে তার স্বজনদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন