অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

আনোয়ারায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, ৩৬ হাজার কর্মসংস্থানের আশা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড)-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সরকার বলছে, প্রায় ৭৭৬ একরজুড়ে গড়ে ওঠা এই অর্থনৈতিক অঞ্চল শিল্পায়ন, বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ এবং ৩৬ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আয়োজিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। তিনি জানান, চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলে অবকাঠামো ও শিল্প স্থাপনে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে সরকার শিগগিরই শতভাগ কার্যকর সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস চালু করবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার ও মূলধনী খাতে কৌশলগত বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি শ্রমিকদের আবাসন, আধুনিক জীবনযাত্রার মান এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আনোয়ারা শিল্পাঞ্চলে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে একটি আধুনিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনে চীনা অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আনোয়ারার মাটিতে সিইআইজেড-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প রূপান্তরের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক আস্থা ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) প্রকল্প দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

তিনি জানান, প্রায় ৭৭৬ একর (৩১৪.৩৯ হেক্টর) আয়তনের এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পাশাপাশি বায়ো-ফার্মাসিউটিক্যালস, খাদ্য ও পানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে রপ্তানি খাত আরও বৈচিত্র্যময় হবে এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রকল্পটির ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি কর্ণফুলী টানেল থেকে প্রায় ৭০০ মিটার, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এন-১ জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হওয়ায় পণ্য পরিবহন সহজ ও দ্রুত হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্পাঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের সেন্ট্রাল এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন করিডোর এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। বেজার ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদন এবং গ্যাস-বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করারও আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সারোয়ার জামাল নিজাম, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস চেয়ারম্যান লি চ্যাংগুই এবং বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন