অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে বিজিবিকে নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ঢাকা, ২০ জুলাই ২০২৬: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখার জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার দুপুরে ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ শাকিল আহমেদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সব ব্যাটালিয়ন ও বিওপির সদস্যরা অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত পাঁচ মাসে বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি জানান, স্মার্ট সীমান্ত ব্যবস্থাপনার আওতায় নতুন বিওপি স্থাপন, জনবল বৃদ্ধি, ড্রোন, নাইট ভিশন ও থার্মাল ক্যামেরাসহ আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে বিজিবিকে বিশ্বমানের আধুনিক ও ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

বাহিনীর শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর মূল ভিত্তি হলো কঠোর শৃঙ্খলা। তিনি বিজিবি সদস্যদের গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাজেট ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বিজিবির যৌক্তিক চাহিদা এবং সদস্যদের আবাসন ও কল্যাণমূলক সুবিধা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিজিবি নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে দেশ-বিদেশে প্রশংসা অর্জন করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জোরপূর্বক ‘পুশ-ইন’-এর অপচেষ্টা দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করায় বিজিবির ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের ফলে বর্তমানে এ ধরনের অপচেষ্টা কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিজিবির মানবিক কর্মকাণ্ডেরও প্রশংসা করেন তিনি।

এর আগে বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে ব্রিফিং গ্রহণ করেন। মতবিনিময় সভা শেষে তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ও দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এছাড়া সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন