বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

গাজা ত্রাণবাহী নৌযানের দুই কর্মীকে মুক্তির দাবি জাতিসংঘের

জাতিসংঘ গাজামুখী মানবিক সহায়তা বহনকারী নৌবহরের দুই কর্মীকে “অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে” মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েল-এর প্রতি। একই সঙ্গে তাঁদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, স্পেনের নাগরিক সাইফ আবু কেশেক এবং ব্রাজিলের নাগরিক থিয়াগো দে আভিলা-কে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী।

এই দুই কর্মী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা-এর অংশ হিসেবে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। গত ৩০ এপ্রিল গ্রিস উপকূলসংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী নৌবহরটি আটকে দেয়।

ফ্লোটিলার আয়োজকদের দাবি, প্রায় ১৮০ কর্মীর মধ্যে কেবল এই দুজনকে ইসরায়েলে নিয়ে গিয়ে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেন, “গাজার ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি জানানো এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা কোনো অপরাধ নয়।” তিনি আরও বলেন, আটক দুই কর্মীর ওপর “গুরুতর দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের” অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

মানবাধিকার সংগঠন আদালাহ জানিয়েছে, দুই কর্মীর বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে “সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা” এবং “বিদেশি এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ”-এর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, আটক অবস্থায় তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, যা “নির্যাতন” হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ইসরায়েলের একটি আদালত মঙ্গলবার তাঁদের আটকাদেশ আগামী ১০ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফ্লোটিলার আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার আটক হওয়ার পর থেকেই তাঁরা অনশন করছেন এবং শুধু পানি পান করছেন।

এদিকে বুধবার থিয়াগো দে আভিলার মা তেরেসা রেজিনা দে আভিলা ই সিলভা ব্রাজিলিয়ার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন বলে জানিয়েছে ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।

এর আগে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা একই নৌবহরের আগের অভিযাত্রাও ব্যাপক আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পরে অক্টোবরের শুরুতে মিশর ও গাজা উপকূলের কাছে ইসরায়েলি বাহিনী সেই নৌযানগুলোও আটক করে। সে সময় সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ-সহ কয়েকজনকে আটক ও বহিষ্কার করা হয়েছিল।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ইসরায়েলকে “অস্পষ্ট ও বিস্তৃত সন্ত্রাসবিরোধী আইন” ব্যবহার করে ইচ্ছামতো আটক প্রক্রিয়া বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাজার ওপর অবরোধ প্রত্যাহার এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন