বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ইরান নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমের বয়ান ‘গভীরভাবে বিভ্রান্তিকর’: ব্রিটিশ স্বাধীন সাংবাদিক

ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ স্বাধীন সাংবাদিক ও বিশ্লেষক বুশরা শেখ বলেছেন, ইরান সম্পর্কে পশ্চিমা গণমাধ্যমে যে চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে, তা “গভীরভাবে বিভ্রান্তিকর” এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত ভয়াবহতা ছবি বা ভিডিওতে পুরোপুরি প্রকাশ পায় না। তাঁর ভাষায়, “বাস্তবে গিয়ে দেখেছি, পুরো ভবন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কেবল ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে। ছবিতে এর গভীরতা বোঝানো সম্ভব নয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন, বিস্ফোরণের ব্যাপ্তি এবং নারী-শিশুসহ বেসামরিক হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। এতে যুদ্ধের মানবিক প্রভাব আড়াল হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে বুশরা শেখ বলেন, “একটি ভবনে কোনো সামরিক ব্যক্তির উপস্থিতির অভিযোগ এনে পুরো আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালানোর ঘটনা বারবার বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এর আইনি ও নৈতিক প্রশ্নগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা উদ্বেগজনক।”

তিনি আরও বলেন, বেসামরিক অবকাঠামো, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ও হামলার শিকার হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, “যে প্রতিষ্ঠান জনগণকে তথ্য দেয়, সেটিকে কীভাবে বৈধ সামরিক লক্ষ্য বলা যায়?”

মিনাবের স্কুলে হামলার অভিজ্ঞতা

সাক্ষাৎকারে তিনি মিনাব-এর শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয় সফরের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় বিদ্যালয়টিতে বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।

বুশরা শেখ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি কোনো সামরিক স্থাপনার চিহ্ন দেখেননি। বরং দেয়ালে শিশুদের আঁকা ছবি, ভাঙা বেঞ্চ এবং শ্রেণিকক্ষের অবশিষ্টাংশ দেখে স্পষ্ট হয়েছে এটি একটি সক্রিয় বিদ্যালয় ছিল।

তিনি বলেন, “যদি বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত গোয়েন্দা প্রযুক্তি তাদের থাকে, তাহলে তারা নিশ্চয়ই জানত এটি একটি স্কুল।”

হামলাকে “ভুলবশত” আখ্যা দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা দুর্ঘটনা নয়। এটি ভয় ও মানসিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।”

“ইরান ভেঙে পড়ছে”—এ ধারণা বাস্তব নয়

পশ্চিমা গণমাধ্যমে ইরানকে “ভেঙে পড়ার মুখে থাকা রাষ্ট্র” হিসেবে উপস্থাপনের সমালোচনা করে বুশরা শেখ বলেন, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান উল্লেখযোগ্য আত্মনির্ভরতা তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, “অবকাঠামো, গণপরিবহন, স্থানীয় শিল্প ও ওষুধ উৎপাদন—সবকিছু দেখলে বোঝা যায় দেশটি অত্যন্ত অভিযোজনক্ষমভাবে পরিচালিত হচ্ছে।”

তাঁর মতে, ইরানকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করা মূলত একটি রাজনৈতিক বয়ান।

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে তিনি বলেন, “ইরানের মানুষ যুদ্ধ চায় না। তারা বিদেশি হস্তক্ষেপও চায় না। সাধারণ মানুষ শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনই চায়।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন