বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

আবারও বাড়ল মূল্যস্ফীতি, এপ্রিলে ৯.০৪ শতাংশে পৌঁছাল

প্রান্তকাল প্রতিবেদন:

চলতি বছরের মার্চে কিছুটা কমে ৯ শতাংশের নিচে নামার পর আবারও বেড়েছে দেশের মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে। মার্চে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

বুধবার প্রকাশিত বিবিএসের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত—উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং বাজারে সরবরাহ সংকটের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

খাদ্য খাতে চাপ বেড়েছে

এপ্রিল মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। মার্চে এ হার ছিল তুলনামূলক কম। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শাকসবজি, মাছ, মাংস ও মসলাজাতীয় পণ্যের উচ্চমূল্য খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

যদিও গত বছরের এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ, তবে চলতি বছরেও বাজারে স্বস্তি ফেরেনি বলে মনে করছেন ভোক্তারা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ছে।

খাদ্যবহির্ভূত খাতেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি

বিবিএসের তথ্যমতে, এপ্রিলে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে। এ খাতে বাড়িভাড়া, পোশাক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পরিবহন, জ্বালানি ও দৈনন্দিন সেবার ব্যয় বৃদ্ধি বড় ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও প্রভাব ফেলছে।

শহর ও গ্রাম—দুই এলাকাতেই বেড়েছে মূল্যস্ফীতি

এপ্রিল মাসে শহর ও গ্রাম উভয় এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। গ্রামে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। অন্যদিকে শহরে এ হার বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ০২ শতাংশ, মার্চে যা ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাব বেশি পড়ছে। একই সঙ্গে শহরে বাড়িভাড়া ও সেবাখাতের ব্যয় বৃদ্ধিও মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।

বেড়েছে মজুরির হারও

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের মজুরি সূচকেও সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। মার্চে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ, যা এপ্রিলে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১৬ শতাংশে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, মজুরি বাড়লেও তা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে প্রকৃত আয় কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা চাপে রয়েছে।

কয়েক মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র

বিবিএসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী—

  • জানুয়ারি ২০২৬: ৮.৫৮ শতাংশ
  • ফেব্রুয়ারি: ৯.১৩ শতাংশ
  • মার্চ: ৮.৭১ শতাংশ
  • এপ্রিল: ৯.০৪ শতাংশ

অন্যদিকে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ

বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ পুরোপুরি কমানো যাচ্ছে না।

তাদের মতে, বাজার তদারকি জোরদার, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।

অন্যদিকে সামনে কোরবানির ঈদকে ঘিরে বাজারে চাহিদা বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন