বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহায়তা চাইল বাংলাদেশ, কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের অঙ্গীকার

বাংলাদেশ তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীন-এর সম্পৃক্ততা ও সহায়তা চেয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশ তাদের বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বুধবার বেইজিং-এর দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউস-এ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই’র আমন্ত্রণে ৫ থেকে ৭ মে সরকারি সফরে চীন অবস্থান করছেন ড. খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর প্রথম চীন সফর।

বৈঠকে দুই পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করে এবং একে অপরের মৌলিক স্বার্থ রক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর সমাধানে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতি বজায় রাখা, উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধি, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় করা এবং উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ পুনরায় “এক চীন নীতি”-র প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং “তাইওয়ানের স্বাধীনতা”-সংক্রান্ত যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে ঢাকা।

অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেয়।

বৈঠকে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-এর আওতায় অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানি সম্পদ, স্বাস্থ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশি পক্ষ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর “মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ার উদ্যোগ”-এর প্রশংসা করে এবং চীনের বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।

দুই দেশ জাতিসংঘ সনদের নীতি, বহুপাক্ষিকতা, গণতন্ত্র এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীনের প্রস্তাবের প্রশংসা করে। উভয় পক্ষ অবিলম্বে পূর্ণ যুদ্ধবিরতি, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু সুরক্ষা, শান্তি ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল বজায় রাখার আহ্বান জানায়।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে চীন জানায়, তারা মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টায় সক্ষমতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

বৈঠক শেষে ড. খলিলুর রহমান সুবিধাজনক সময়ে ওয়াং ই-কে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন