বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট কাল সংসদে

ঢাকা, ১০ জুন: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট আগামীকাল জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট। সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নেওয়া।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাজেটটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এবারের বাজেটে অবকাঠামো খাতের পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে উদ্যোক্তা বিকাশে নতুন তহবিল গঠন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ইঙ্গিত থাকতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে ই-হেলথ কার্ড কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নতুন কিছু কর্মসূচি যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যমান সুরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের চিন্তা রয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং যুবসমাজকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেও বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব থাকতে পারে।

অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অবশিষ্ট অর্থ ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তার মাধ্যমে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা হতে পারে, যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করতে লাইসেন্স, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা বিভিন্ন সরকারি সেবা এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই গ্রহণ করতে পারবেন।

একই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও ডিজিটাল করার উদ্যোগও থাকছে। অনলাইনে কর রিটার্ন দাখিল, দ্রুত কর ফেরত প্রদান এবং করসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা সহজ করার প্রস্তাব আসতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। তবে নীতিনির্ধারকদের আশা, চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন