রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

ওপেনএআইতে মালিকানা অংশ নিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন, চলছে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মালিকানা অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ওপেনএআইসহ কয়েকটি এআই কোম্পানির সঙ্গে সম্ভাব্য ইক্যুইটি অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করছেন।

প্রথমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম NOTUS। পরে CNBC-ও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের এ আলোচনা ২০২৫ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল। সে সময় অল্টম্যান নিজেই এ ধরনের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন বলে জানা গেছে।

আলোচনায় এমন একটি সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে কথা হচ্ছে, যেখানে ওপেনএআই স্বেচ্ছায় তাদের কিছু শেয়ার বা মালিকানা অংশ যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দিতে পারে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রস্তাবিত ‘পাবলিক ওয়েলথ ফান্ড’-সদৃশ একটি কাঠামো বাস্তবায়নের সুযোগ পেতে পারে।

গত এপ্রিল মাসে প্রকাশিত একটি শিল্পনীতি-সংক্রান্ত নথিতে ওপেনএআই ‘পাবলিক ওয়েলথ ফান্ড’-এর ধারণা তুলে ধরে। সেখানে বলা হয়, এ ধরনের তহবিলের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিককে এআই-নির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংশীদার করা সম্ভব হবে।

তবে সম্ভাব্য চুক্তির কোনো আনুষ্ঠানিক শর্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে ওপেনএআইয়ের কত শতাংশ মালিকানা যুক্তরাষ্ট্র সরকার পেতে পারে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের মাধ্যমে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের ১০ শতাংশ মালিকানা অংশ অর্জন করেছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান সম্প্রতি ওয়াশিংটনে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে এআই খাতের নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নীতিমালা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রশাসন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, যার ফলে নতুন কোনো এআই মডেল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে তা সরকারি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে। ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা এ নির্দেশনার সঙ্গে সহযোগিতা করবে এবং প্রয়োজন হলে নতুন মডেলগুলো জনসাধারণের কাছে প্রকাশের আগে সরকারি নিয়ন্ত্রকদের পর্যালোচনার সুযোগ দেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রযুক্তি খাতে সরাসরি অংশীদারিত্বের অন্যতম বড় উদাহরণ। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় স্বার্থের মধ্যে নতুন ধরনের সম্পর্কের সূচনা ঘটতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন