বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আরএমজির বাইরে রপ্তানি খাত সম্প্রসারণে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা, ১০ জুন : তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বাইরে দেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদন সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্প সুদে এ ঋণ সুবিধা রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৭ জুন জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি কমানো এবং সম্ভাবনাময় অন্যান্য রপ্তানি খাতকে উৎসাহিত করতেই এ স্কিম চালু করা হয়েছে।

স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। এসব প্রতিষ্ঠান রপ্তানিকারকদের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান করতে পারবে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামাল ব্যবহারকারী রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপনে পাট ও চামড়া শিল্পকে রপ্তানি বহুমুখীকরণের গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭ অনুযায়ী ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ এবং ‘বিশেষ উন্নয়ন’ খাতভুক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও এ সুবিধা পাবে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, দেশের চামড়া শিল্প বর্তমানে নানা সংকটে রয়েছে। স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা খাতটির জন্য সহায়ক হবে। তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের কাছে এ সুবিধা পৌঁছানো এবং ঋণের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা জরুরি।

টিপরা ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, রপ্তানি খাতের জন্য সরকারের এ উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে এ ধরনের ঋণের সুদের হার প্রচলিত বাণিজ্যিক ঋণের তুলনায় আরও প্রতিযোগিতামূলক হওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ জুট গুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেজিইএ) ভাইস চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, পাট ও চামড়া শিল্প দীর্ঘদিন ধরে তারল্য সংকটে ভুগছে। স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা পেলে উদ্যোক্তারা উৎপাদন ও পণ্যের গুণগত মান উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে পারবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পাটপণ্যের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, ঋণ সুবিধার পাশাপাশি পাটপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তাও অব্যাহত রাখতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, রপ্তানি আয়ের ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং নতুন খাতের বিকাশে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করা হয়েছে। সময়মতো স্বল্প সুদে অর্থায়ন নিশ্চিত হলে রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন পণ্যের বাজার সৃষ্টি হবে এবং দেশের রপ্তানি বাণিজ্য আরও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি সঞ্চার হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন