রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

ভাঙ্গায় ঘুমন্ত স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ, স্ত্রী আটক

পারিবারিক কলহের জেরে ঘটনা; গুরুতর আহত স্বামীকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে

ফরিদপুর, ৮ আগস্ট ২০২৬:
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী শিখা বেগমের (৩০) বিরুদ্ধে। শনিবার (৮ আগস্ট) ভোররাতে উপজেলার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম বাকপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।

আহত মারুফ মাতুব্বর (৩৮) ওই এলাকার মৃত মোখছেদ মাতুব্বরের ছেলে। অভিযুক্ত শিখা বেগম সদরপুর উপজেলার শামসুর গ্রামের মৃত মানিক খানের মেয়ে।

ঘুমন্ত অবস্থায় হামলার অভিযোগ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে মারুফ মাতুব্বর ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর স্ত্রী শিখা বেগম ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করেন বলে অভিযোগ। এতে মারুফ গুরুতর আহত হন। তাঁর চিৎকার শুনে বড় ভাই রেজাউল মাতুব্বর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।

পরে তাঁকে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মমিনুর রহমান সরকার জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারুফ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মারুফ নারায়ণগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। কর্মস্থলের কারণে তিনি সাধারণত প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসেন এবং শনিবার সকালে কর্মস্থলে ফিরে যান।

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। সেই বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্ত্রী আটক, মামলা প্রক্রিয়াধীন

ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে অভিযুক্ত শিখা বেগমকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের কারণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন