ঢাকা, ১২ জুন : ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর হ্রাস, চিকিৎসা খাতে কর সুবিধা বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বড় অঙ্কের বরাদ্দের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে বাজেটের এসব উদ্যোগ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেন। বাজেটে খাদ্যপণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে চাল, ডাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি ও লবণসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে ব্যয় কমবে এবং বাজারে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা আরও সাশ্রয়ী করতে কিডনি রোগীদের ব্যবহৃত ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে কর ও ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে হৃদরোগীদের ব্যবহৃত স্টেন্ট এবং চোখের চিকিৎসায় ব্যবহৃত লেন্সের ওপরও কর ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব বাজেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, অসচ্ছল পরিবার, শ্রমজীবী মানুষ এবং বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান সহায়তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন কিছু কর্মসূচি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় খাদ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করার উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে হলে কার্যকর বাস্তবায়ন এবং বাজার তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে জনকল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে সরকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও সহনীয় করার চেষ্টা করেছে। বাজেটের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে।

