বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের দেশ ও জনগণের কল্যাণে নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। তাই দেশ ও জনগণের কল্যাণে নির্ভয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন।”

বুধবার রাতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন-এর বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনমনে ধীরে ধীরে আস্থা তৈরি হয়। প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়, এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমাদের দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে তারাই বদলে দিতে পারবে বাংলাদেশকে।”

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের উপকার করার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে এবং ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে জাগ্রত রাখতে হবে। তিনি পরিবারকে রাষ্ট্রের ক্ষুদ্রতম ইউনিট উল্লেখ করে বলেন, পারিবারিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হলে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধও সুসংহত হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এখন জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে এবং সেটি বাস্তবায়নের বড় দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। তিনি বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের “মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর” হিসেবে অভিহিত করেন।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রশাসনকে জনমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকারপ্রধান বলেন, সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ যেন কোনো হয়রানি ছাড়া সম্মানের সঙ্গে দ্রুত সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, “আইন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। একজন বৃদ্ধ বা অসুস্থ মানুষ সেবা নিতে এলে তার প্রতি মানবিক আচরণ করা জরুরি।”

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিক আচরণ সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ায়, আর হয়রানি মানুষের রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি বিশ্বাস নষ্ট করে।

এর আগে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে সচিবালয় থেকে সম্মেলনস্থলে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন