বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা সক্ষমতার জন্য অপরিহার্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর এখন আর শুধু পরিবেশগত কোনো আলোচনার বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত।

বুধবার রাজধানীর InterContinental Dhaka-এ অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে সুইচ টু সিই পাইলট উদ্যোগের মাধ্যমে সার্কুলার অর্থনীতির রূপান্তর ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও BGMEA-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাইকেল মিলার এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং টেকসই উৎপাদন এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার অন্যতম নির্ধারক হয়ে উঠেছে। ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও ভোক্তারা এখন এমন উৎপাদন ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহী, যা দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিচয় বহন করে।

তিনি জানান, ‘সুইচ টু সার্কুলার ইকোনমি’ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত পাইলট কার্যক্রম ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে সার্কুলার অর্থনীতিতে রূপান্তর কোনো কল্পনাপ্রসূত ধারণা নয়; বরং এটি বাস্তবসম্মত ও অর্জনযোগ্য। H&M Group এবং BESTSELLER-এর সহযোগিতায় পরিচালিত কার্যক্রমগুলো বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে টেক্সটাইল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার এবং ভ্যালু চেইন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

মন্ত্রী বলেন, সার্কুলার অর্থনীতির মাধ্যমে সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা, বর্জ্য হ্রাস, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা জোরদার, উদ্ভাবন ও মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাত অত্যন্ত সম্পদনির্ভর হওয়ায় পুনর্ব্যবহার ও পুনঃচক্রায়নের ভিত্তিতে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপান্তর পরিবেশগত চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, সরকার, শিল্পখাত, বৈশ্বিক ব্র্যান্ড, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও উন্নয়ন সহযোগীরা সমন্বিতভাবে কাজ করলেই সার্কুলার রূপান্তর সফল হবে। এ লক্ষ্যে সরকার উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, টেকসই বিনিয়োগকে সহায়তা দেওয়া এবং অংশীজনদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের জন্য সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশকে নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার কমে আসবে। তাই এখন থেকেই অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব করে তুলতে হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের লজিস্টিক কস্ট টু জিডিপি রেশিও প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। এই ব্যয় কমাতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর-এর দক্ষতা বাড়াতে ইতোমধ্যে একটি টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব একটি ড্যানিশ কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক দক্ষ প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিনিয়োগ পরিবেশ সহজীকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে কোনো প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের পরই অস্থায়ী অনুমোদন পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যে স্থায়ী অনুমোদন ও লাইসেন্স সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য ও পাটজাত পণ্যসহ সব ধরনের রপ্তানিপণ্যকে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব এখন উপলব্ধি করেছে যে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে মানবসভ্যতা টিকে থাকতে পারে না। তবে বর্তমান কার্বন ও দূষণ সংকটের জন্য প্রধানত উন্নত অর্থনীতিগুলো দায়ী। তাই একটি টেকসই বৈশ্বিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে উন্নত দেশগুলোকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন