বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ইরানে সংঘাতের মধ্যে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত, শরণার্থীদের সহায়তা বাড়াচ্ছে ডব্লিউএফপি

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, মার্চ মাসে ইরানে প্রায় ৩৩ হাজার ৪২৪ জন শরণার্থীকে খাদ্য ও নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে আফগান ও ইরাকি শরণার্থীরা রয়েছেন।

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, অর্থসংকটের কারণে গত নভেম্বর থেকে মাথাপিছু গমের আটা বরাদ্দ ১২ কেজি থেকে কমিয়ে ৯ কেজি করা হয়েছে। শরণার্থীদের খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি নগদ অর্থও দেওয়া হচ্ছে। পুরুষপ্রধান পরিবারগুলোকে ৮ মিলিয়ন ইরানি রিয়াল এবং নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে ৯ মিলিয়ন রিয়াল করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন রোগীদের জন্যও অতিরিক্ত সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। মার্চ পর্যন্ত ডব্লিউএফপি ৫৭ জন সিলিয়াক রোগে আক্রান্ত শরণার্থীকে গ্লুটেনমুক্ত খাদ্যের বিকল্প হিসেবে অতিরিক্ত নগদ সহায়তা দিয়েছে।

এ ছাড়া ১১টি শরণার্থী বসতিতে বসবাসকারী ৪০৮ জন প্রতিবন্ধী শরণার্থীকে অতিরিক্ত মাসিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সাভেহ, সেমনান, রাফসানজান, জাহরোম ও তোরবাত-ই-জামসহ বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

সংঘাতের কারণে স্কুলগুলো অনলাইনে চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের জন্য ‘টেক হোম রেশন’ চালু করা হয়েছে। মার্চে ৮ হাজার ৩০৩ জন শরণার্থী শিক্ষার্থী ও তাঁদের শিক্ষকদের মধ্যে খেজুর বার ও পুষ্টিকর বিস্কুট বিতরণ করা হয়। অর্থসংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে দুধ সরবরাহ সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

শরণার্থী মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ দিতে ২ হাজার ৬১৮ জন শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবে মাসিক নগদ প্রণোদনাও দিয়েছে ডব্লিউএফপি।

একই সঙ্গে ৩৬৪ জন শরণার্থীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে ২৬টি আয়বর্ধক প্রকল্পে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে ছিল দর্জির কাজ, ওয়েল্ডিং, বেকারি ও কৃষিকাজ।

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে ইরানে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক জনস্থানান্তর শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৩২ লাখ মানুষ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর মধ্যে তেহরান-সহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারাও রয়েছেন।

সংকটের পর নতুন করে প্রায় ৭ হাজার শরণার্থীকে শনাক্ত করেছে ইরান সরকার, যাঁদের সহায়তার জন্য ডব্লিউএফপির কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিদ্যমান শরণার্থী বসতিগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং খাদ্য সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে।

বর্তমানে ইরান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশ। ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ২৫ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছে। তবে ইরান সরকারের হিসাবে নিবন্ধনবহির্ভূতদেরসহ এ সংখ্যা ৬১ লাখের বেশি। এদের অধিকাংশই আফগানিস্তান ও ইরাক থেকে আসা শরণার্থী।

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, দেশে ফেরার বাস্তবসম্মত সুযোগ না থাকায় বিশেষ করে ২০টি শরণার্থী বসতিতে থাকা ৩৩ হাজারের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

১৯৬২ সাল থেকে ইরানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ডব্লিউএফপি। প্রথমে ভূমিকম্প–পরবর্তী জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার পর ১৯৮৭ সাল থেকে শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটি পুনরায় কার্যক্রম শুরু করে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন