শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ

দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ও অভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সাউথ এশিয়া রিজিওনাল ক্লাইমেট কোঅপারেশন (এসএআরসিসি) আয়োজিত এক সভায় তিনি এ গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিবেশ সুরক্ষা, বৃক্ষরোপণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানী ও এর আশপাশের নদীগুলোর দূষণ রোধেও সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীকে দূষণমুক্ত করতে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নদীগুলোতে দূষিত বর্জ্য প্রবেশের উৎস বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো আন্তঃসীমান্ত সংকট মোকাবিলায় সার্ক ও বিমসটেককে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি কোনো একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই এ সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক পর্যায়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম।

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়; বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান বাস্তবতা। তাপপ্রবাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, হিমবাহের পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো ঘটনাগুলোর প্রভাব জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চলকে প্রভাবিত করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত ও ভবিষ্যতমুখী আঞ্চলিক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জাতীয় বৃক্ষরোপণ সেলের সদস্য ও কারিগরি বিশেষজ্ঞ জামাইল বশীর জেবি, ধরিত্রী রক্ষায় আমরার সদস্যসচিব শরীফ জামিল, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর আলোচকগোষ্ঠীর সমন্বয়কারী জিয়াউল হক এবং জলবায়ু আলোচক এম হাফিজুল ইসলাম খান বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাবিব রহমান। বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন হিউম্যান সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম এ মুকিত এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সিসিডিবির জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচির সমন্বয়কারী মো. আশরাফুজ্জামান খান, আইইউসিএন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারোয়ার আলম দিপু, হেলভেটাস বাংলাদেশের ওয়াটার, ফুড অ্যান্ড ক্লাইমেট কর্মসূচির প্রধান মাহমুদুল হাসান তারেক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের সহকারী পরিচালক শারমিন নাহার নিপা এবং সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার।

আলোচনায় আরও অংশ নেন ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশনের অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আলী শাহীন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. হাসিব মো. ইরফানউল্লাহ এবং উন্নয়ন অন্বেষণের পরিচালক এস এম মনজুর রশিদ।

‘কো-ডিজাইন দ্য ফিউচার অব সাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট ডিপ্লোমেসি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সভায় জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন