রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

গুড নেইবারস বাংলাদেশের ৩০ বছর: ২৭ সমবায়ে যুক্ত ৪২ হাজারের বেশি প্রান্তিক নারী

বাংলাদেশে কার্যক্রমের ৩০ বছর পূর্ণ করেছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা গুড নেইবারস বাংলাদেশ (জিএনবি)। তিন দশকের এই পথচলায় শিশু অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, আয়বর্ধক কার্যক্রম এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সমবায়ভিত্তিক উন্নয়নেও কাজ করছে সংস্থাটি। বর্তমানে জিএনবির সহায়তাপুষ্ট ২৭টি সমবায়ের মাধ্যমে ৪২ হাজার ৪১২ জন প্রান্তিক নারী সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।

প্রতিষ্ঠানটির ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গুড নেইবারস বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে সমবায় অধিদপ্তর। একই সঙ্গে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর ও টেকসই সমবায় গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

সমবায় অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গুড নেইবারস বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সমবায়ভিত্তিক অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে প্রান্তিক নারীদের সংগঠিত করা, সমবায়ের ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন শক্তিশালী করা, নেতৃত্ব ও দক্ষতা উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং উৎপাদিত পণ্যের বাজার সংযোগ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম ভূমিকা রাখছে।

২৭ সমবায়ে ৪২ হাজার ৪১২ নারী

গুড নেইবারস বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত ২৭টি সমবায়ের সঙ্গে বর্তমানে ৪২ হাজার ৪১২ জন প্রান্তিক নারী সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। অর্থাৎ প্রতিটি সমবায়ের সঙ্গে গড়ে দেড় হাজারের বেশি নারী সম্পৃক্ত।

সমবায়ভিত্তিক এ ব্যবস্থায় নারীদের শুধু একটি সংগঠনের সদস্য করার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নেই। তাদের আর্থিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, সঞ্চয় ও অর্থ ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং আয়বর্ধক উদ্যোগ গ্রহণের সক্ষমতা তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের জন্য সমবায় এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে পারে, যেখানে ক্ষুদ্র পরিসরে থাকা অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সম্পদ সম্মিলিত উদ্যোগে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে দলগতভাবে উৎপাদন, সঞ্চয়, ঋণ বা অর্থায়ন এবং বাজারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ বাড়ে।

নারীর নেতৃত্ব ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্ব

সমবায় অধিদপ্তর বলছে, জিএনবির সহযোগিতায় পরিচালিত কার্যক্রমগুলো নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী ও টেকসই সমবায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সহায়ক হচ্ছে।

এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে সমবায় ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন। একটি সমবায় দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে সদস্যদের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছ হিসাবব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব তৈরি এবং সাংগঠনিক জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রেই সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে প্রান্তিক নারীদের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং তাদের আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উৎপাদন বা ক্ষুদ্র উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত নারীদের জন্য বাজার সংযোগ তৈরি হলে তাদের পণ্য বিক্রি ও আয়ের সুযোগ বাড়তে পারে। ফলে সমবায় শুধু সামাজিক সংগঠন হিসেবে নয়, স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে।

তিন দশক ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম

গুড নেইবারস বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা সংস্থা গুড নেইবারসের বাংলাদেশ কার্যক্রম। সংস্থাটি ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে। শিশুদের অধিকার ও কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে কমিউনিটিভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি ও স্যানিটেশন, আয়বর্ধক উদ্যোগ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

বাংলাদেশে সংস্থাটির কার্যক্রমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের সক্ষমতা তৈরি এবং নিজেদের সমস্যা সমাধানে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের অন্যতম দিক।

সমবায় কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে সমবায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষক এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে সমবায়ভিত্তিক সংগঠন ব্যক্তিগতভাবে সীমিত মূলধন বা বাজার সক্ষমতার বাধা কাটিয়ে সম্মিলিতভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। প্রশিক্ষণ, সঞ্চয়, ঋণ সুবিধা, উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের মতো কার্যক্রম একই কাঠামোয় যুক্ত করা গেলে সদস্যদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হয়।

এ কারণে গুড নেইবারস বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত সমবায়গুলোতে নারীদের সংগঠিত করার পাশাপাশি নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও বাজার সংযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা

৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গুড নেইবারস বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে সমবায় অধিদপ্তর ভবিষ্যতেও সমবায়ভিত্তিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা করেছে।

তিন দশক পূর্তির এই সময়ে ২৭টি সমবায়ের সঙ্গে ৪২ হাজারের বেশি প্রান্তিক নারীর সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠানটির সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য পরিসর তৈরি করেছে। এই নারীদের আয়, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা কতটা দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধি করা যায় এবং সমবায়গুলো কতটা স্বনির্ভর ও টেকসই প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়—সেটিই হবে আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন