রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

ফরিদপুরে মাদক-সংক্রান্ত বিরোধে পাল্টাপাল্টি হামলা, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

ফরিদপুরে মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে উত্তেজিত একটি পক্ষের হামলার শিকার হয়েছে স্থানীয় থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানও ভাঙচুর করা হয়েছে।

পরে অতিরিক্ত পুলিশের সহায়তায় এ ঘটনায় গুরুতর আহত দুজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান।

এর আগে, গতকাল (শুক্রবার) রাত ৮ টার দিকে জেলা সদরের নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলজার মন্ডলের ডাঙ্গীর আক্কাচ আলীর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে একপক্ষের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় লতিফ শিকাদারের ছেলে বক্কার শিকদার (৪২) ও অপরপক্ষের নেতৃত্ব দেন রাজা মিয়ার ছেলে টুলু মিয়া (৩৫)। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট গোলজার মন্ডলের ডাঙ্গী এলাকায় বসে স্থানীয় যুবক শাকিল ও তার কয়েকজন বন্ধু ইয়াবা সেবন করছিলেন। এ সময় মোবাইলে ওই দৃশ্য ধারণ করেন টুলু মিয়া ও সুমনসহ ৩/৪ জন ব্যক্তি। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে টুলু ও তার সহযোগীরা শাকিলের কাছে টাকা দাবি করেন।

পরবর্তীতে শাকিলের লোকজন টুলু মিয়াকে টাকা নেওয়ার জন্য ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। টুলু মিয়া টাকা নিতে আসলে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে থানা পুলিশের হাতে তাকে সোপর্দ করা হয়।

এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে টুলু মিয়াকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় নিয়ে যায় এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার জের ধরে গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টুলু মিয়া পার্শ্ববর্তী মোহাম্মদপুর এলাকা হতে আনুমানিক ১৫-২০টি মোটরসাইকেলযোগে লোকজন নিয়ে গোলজার মন্ডলের ডাঙ্গী ও আক্কাচ আলীর মোড়ে মহড়া দেন। এ সময় আগের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট স্থানীয় মুদি দোকানি বক্কার শিকাদার ও মান্নান নামে দুই ব্যক্তিকে মারধর করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা।

মারধরের কথা বক্কার শিকদারের পক্ষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা উত্তেজিত হয়ে টুলু মিয়াকে না পেয়ে তার বাবা রাজা মিয়া (৭০) ও স্থানীয় জয়নাল শিকদার (৬৫) নামে দুইজনকে মারধর করেন। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের জিম্মি করে রাখে কয়েকশ’ লোকজন।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহত রাজা মিয়া ও জয়নালকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে চাইলে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে বাধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন পুলিশের গাড়িতে হামলা করে গাড়ির পর্দা ছিড়ে ফেলে এবং গাড়ির চাবি নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য এবং কোতোয়ালি থানার ওসি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। একপর্যায়ে আহত রাজা মিয়া ও জয়নালকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে বক্কার শিকদার ও টুলু মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তবে স্থানীয় মিন্টু মৃধা নামে এক ব্যক্তি জানান, টুলু মিয়া ওমানে থাকলেও মাঝেমধ্যে দেশে আসেন এবং আধিপত্য বিস্তার করেন। তারা দুই-তিনটি পরিবার ব্যতীত পুরো গ্রাম একদিকে রয়েছে। গতকাল ঘটনাটি ঘটিয়ে আজ (শনিবার) সকাল ১০টার ফ্লাইটে তিনি নাকি আবার ওমান চলে গেছেন।

তিনি আরও বলেন, আগের ঘটনার দিন টুলুর ভাই নিলু মিয়া রামদা নিয়ে এসেছিলেন। তখন বক্কারের ছেলে লালচান তাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিলেন। এ কারণে গতকাল বক্কারকে এসে মারধর করেছেন তিনি। পরে গ্রামবাসী মিলে তার বাড়িতে হামলা চালায়।

ওসি মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, স্থানীয় আধিপত্য, মাদকসহ নানা বিষয়ের জেরে দুটি পক্ষের মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে গাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পুলিশের কাজে বাধার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুপক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ দিতে আসেননি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি বলে ওসি জানান।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন