রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

‘শক্তিশালী অবস্থানে’ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে চান ইরানি প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির থাকার মধ্যেই তিনি বলেছেন, ইরান বর্তমানে ‘শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে’ রয়েছে এবং এ অবস্থায় যুদ্ধ শেষ করাই দেশের জন্য ভালো হবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) চিকিৎসকদের সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান এ অবস্থান তুলে ধরেন।

ইরানি প্রেসিডেন্টের দাবি, চলমান সংঘাতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরানের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও করেন তিনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, বিশ্ব এখন তাদের বিজয় স্বীকার করছে এবং এ পরিস্থিতিতে শক্তিশালী অবস্থান থেকেই যুদ্ধের অবসান ঘটানো উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘আত্মসমর্পণের’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক নিয়েও কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। দেশটির পার্লামেন্টের কট্টরপন্থী কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ, ওই সমঝোতার মাধ্যমে পেজেশকিয়ানের সরকার ওয়াশিংটনকে অপ্রয়োজনীয় ছাড় দিয়েছে।

এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পেজেশকিয়ান দাবি করেন, সমঝোতার কোনো ধারাতেই ইরানের আত্মসমর্পণের বিষয় নেই। বরং চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো অপর পক্ষকেই বাস্তবায়ন করতে হবে।

তবে সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সামরিক নেতৃত্ব নতুন কোনো হামলা বা হুমকি এলে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথের পাশাপাশি বিমান প্রতিরক্ষা ও সাইবার ক্ষেত্রেও ইরানি বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। নতুন কোনো হুমকি তৈরি হলে ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনা

এদিকে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে শুক্রবার ফোনে কথা বলেছেন ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনা ও কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথ ইরান এখনো আংশিকভাবে বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধ কার্যক্রমও চলছে।

মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারের একটি বহর চলাচল করছে এবং মার্কিন নৌবাহিনী এসব ট্যাংকারকে নিরাপত্তা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিন আনুমানিক ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি ট্রাম্পের

ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসতে কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চায়, তবে তার মতে তেহরান এখনো ‘সঠিক চুক্তি’ করার জন্য প্রস্তুত নয়।

একই সঙ্গে ইরানকে সহায়তাকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন। কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি।

যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ইরানি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের পাশাপাশি দেশটির সামরিক নেতৃত্বের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি এবং ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি—সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ঘিরে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: আল–জাজিরার প্রতিবেদনের তথ্য অবলম্বনে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন