শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

টেকনাফের নাফ নদীতে কোস্ট গার্ডের অভিযান, বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৩২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন এবং ২৩২ রাউন্ড তাজা ও ব্যবহৃত গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত সন্দেহে একটি কাঠের নৌকাও জব্দ করা হয়েছে। তবে অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) পরিচালিত এ অভিযানের বিষয়ে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানান।

মিয়ানমার থেকে অস্ত্র আসার তথ্য পায় কোস্ট গার্ড

কোস্ট গার্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাহিনীটি জানতে পারে, একটি চক্র মিয়ানমার থেকে নাফ নদী ব্যবহার করে আগ্নেয়াস্ত্র বাংলাদেশে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। এসব অস্ত্র রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করেছে কোস্ট গার্ড।

এ তথ্যের ভিত্তিতে বিসিজি স্টেশন টেকনাফের একটি দল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত নাফ নদীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

সংকেত অমান্য করে প্যারাবনে ঢুকে পড়ে নৌকা

অভিযানের একপর্যায়ে নাফ নদীতে সন্দেহজনক একটি কাঠের নৌকার গতিবিধি নজরে আসে কোস্ট গার্ড সদস্যদের। নৌকাটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি না থেমে দ্রুত নাইট্যংপাড়া প্যারাবনের দিকে চলে যায়।

কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাটি প্যারাবনের ভেতরে নেওয়ার পর এতে থাকা ব্যক্তিরা নৌকা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে কোস্ট গার্ড সদস্যরা নৌকাটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তল্লাশি শুরু করেন।

মাছ ধরার জালের ভেতরে লুকানো ছিল অস্ত্র

তল্লাশির সময় নৌকায় থাকা মাছ ধরার জালের মধ্যে কৌশলে লুকিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে—একটি ম্যাগাজিনসহ বিদেশি রাইফেল, একটি ম্যাগাজিনসহ ৯ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল, রাইফেলের ২২৯ রাউন্ড তাজা গুলি, পিস্তলের দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি এবং এমএ-১ রাইফেলের দুটি ম্যাগাজিন।

অর্থাৎ অভিযানে মোট ২৩১ রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি ফাঁকা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র বহনে ব্যবহৃত সন্দেহে কাঠের নৌকাটিও জব্দ করা হয়।

জড়িতদের শনাক্তে নজরদারি বাড়ানোর দাবি

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ায় অভিযানের সময় কাউকে আটক করা যায়নি। অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকের লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন ও জব্দ করা নৌকার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, সীমান্তপথে অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র ও অপরাধী গোষ্ঠীর তৎপরতা ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তবে উদ্ধার করা অস্ত্র কারা বাংলাদেশে নিয়ে আসছিল এবং সেগুলো শেষ পর্যন্ত কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল—এ বিষয়ে এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্রগুলো হস্তান্তরের পরিকল্পনা ছিল বলে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেটি কোস্ট গার্ডের প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে করা দাবি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন