বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনায় তিন ঘণ্টার ব্যবধানে গুলিতে দুই তরুণ নিহত

একজনকে গুলি ও ছুরিকাঘাত, অন্যজনের লাশের পাশে মিলল গুলির খোসা; দুই হত্যার যোগসূত্র খুঁজছে পুলিশ

খুলনা নগরের লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে গুলিতে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় মঞ্জুরুল ইসলাম (২২) নামের এক তরুণকে গুলি ও ছুরিকাঘাতের পর হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর একই এলাকার অন্য প্রান্ত থেকে উদ্ধার করা হয় নাজমুল (১৮) নামের আরেক তরুণের গুলিবিদ্ধ মরদেহ।

পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনা দুটি পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর বিরোধের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম আশিবিঘা এলাকার খোকন সানার ছেলে। তিনি বাবার সঙ্গে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে নাজমুল একই এলাকার মনির শেখের ছেলে।

ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ, পরে গুলি-ছুরিকাঘাত

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশিবিঘা এলাকার একটি ফাঁকা মাঠে নিয়মিত ফুটবল খেলা হয়। বুধবার বিকেলে সেখানে খেলা নিয়ে মঞ্জুরুলের সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়।

খেলা শেষে এক বন্ধুকে নিয়ে আশিবিঘা কালভার্টের পাশে বসেছিলেন মঞ্জুরুল। এ সময় কয়েকজন সেখানে এলে আবারও তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে মঞ্জুরুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় এবং ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের তথ্য পাওয়া গেলেও হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরোধও তদন্তে

পুলিশের কাছে আশিবিঘা এলাকায় ‘সাইফি গ্রুপ’ ও ‘রাজু গ্রুপ’ নামে দুটি সন্ত্রাসী গ্রুপের তৎপরতা ও পারস্পরিক বিরোধের তথ্য রয়েছে। মঞ্জুরুল হত্যার সঙ্গে এসব গ্রুপের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাই করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঘটনার সময় মঞ্জুরুলের সঙ্গে থাকা এক বন্ধুর সন্ধানও পেয়েছে পুলিশ। তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

তিন ঘণ্টা পর আরেক তরুণের গুলিবিদ্ধ লাশ

মঞ্জুরুল হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশিবিঘা এলাকার আরেক প্রান্তে পাওয়া যায় নাজমুলের গুলিবিদ্ধ মরদেহ। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে নাজমুলকে ঠিক কখন এবং কী পরিস্থিতিতে গুলি করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

নাজমুলের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে চুল কাটিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে তিন-চারজন মুখোশধারী যুবক তাকে ডেকে নিয়ে যায় বলে পরিবার জানতে পারে। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশিবিঘা এলাকায় গুলিবিদ্ধ একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান নাজমুলের বাবা মনির শেখ। সেখানে তিনি মরদেহটি নিজের ছেলের বলে শনাক্ত করেন।

ছেলের হত্যার কারণ সম্পর্কে কিছু জানেন না দাবি করে মনির শেখ বলেন, নাজমুল বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতেন। এর বাইরে তার কোনো অপরাধের কথা পরিবারের জানা নেই।

যোগসূত্র আছে কি না খতিয়ে দেখছে পুলিশ

একই এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণ গুলিতে নিহত হওয়ায় ঘটনা দুটির মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, নাজমুল হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। হত্যার কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তা বের করার চেষ্টা চলছে।

একই সঙ্গে মঞ্জুরুল ও নাজমুল হত্যাকাণ্ড আলাদা ঘটনা, নাকি স্থানীয় কোনো বিরোধ বা অপরাধী চক্রের দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতা—সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন