প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানের টাকা ছিনতাই; আগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি
রাজধানীর উত্তরায় ডিএল পেট্রোল পাম্পের এক কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় কথিত মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। প্রতিষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই তাসীন আক্তার হকের মালিকানাধীন বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম-পরিচয় এবং কোথা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। র্যাব জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে অভিযান ও ছিনতাইয়ের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
ব্যাংকে নেওয়ার পথে ছিনতাই হয় সোয়া কোটি টাকা
ডিএল পেট্রোল পাম্পের এক কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তরায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। তদন্তে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে আসে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ আগস্ট ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন মো. ইলিয়াস শিকদার (৩৬), জাফর (৩৬), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), মিন্টু রাড়ী (২৩) ও সাগর বাড়ৈ (৪০)।
অস্ত্র ও র্যাবের ভুয়া সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি
ডিবি পুলিশ জানিয়েছিল, ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে চারটি ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন ও ২১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া ছিনতাই হওয়া অর্থের মধ্যে নগদ ১২ লাখ টাকা উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ।
অভিযানে র্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট ও ক্যাপের পাশাপাশি ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বর প্লেট, একটি মোটরসাইকেলসহ বেশ কিছু সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব সরঞ্জাম রাখা হয়েছিল কি না এবং ছিনতাইয়ের সময় সেগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল—সে বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এবার ‘মূলহোতা’ র্যাবের হাতে
ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর এবার ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানাল র্যাব।
তবে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল, এতে মোট কতজন অংশ নিয়েছিলেন এবং লুণ্ঠিত অর্থের অবশিষ্ট অংশ কোথায় রয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার র্যাবের সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয়, ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ধরন এবং লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।

