মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

চিংড়ি মহাল পুনর্গঠন, আইনি জটিলতা নিরসনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

স্থগিত থাকা কক্সবাজারের ১ হাজার ৪৬৬টি চিংড়ি মহালের কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ; নতুন খাজনা নির্ধারণ ও অপরিশোধিত সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত।

দেশের চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং এ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন, নতুন করে খাজনা নির্ধারণ এবং ইতোপূর্বের অপরিশোধিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

চিংড়ি মহালের কার্যক্রম সচল করতে আইনি উদ্যোগ

সভা শেষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সাংবাদিকদের জানান, চিংড়ি মহাল থেকে কার্যকরভাবে সরকারি রাজস্ব আদায়, অতীতের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং এ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য হলো কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই দেশের বঞ্চিত মানুষের কাছে স্বচ্ছভাবে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া। চিংড়ি ঘের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং ভূমি মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছ ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় বেলা কর্তৃক দায়ের করা হাইকোর্টের ৭৪৮৩/২০১২ নম্বর রিট মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা কক্সবাজারের ১ হাজার ৪৬৬টি চিংড়ি মহালের কার্যক্রম সচল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এসব মহালের কার্যক্রম ২০১২-১৩ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে। কার্যক্রম পুনরায় চালুর লক্ষ্যে মামলা নিষ্পত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বন বিভাগের গেজেট থেকে বনহীন জমি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত

সভায় যেসব জমিতে বন নেই, সেসব জমি বন বিভাগের গেজেট থেকে বাদ দিয়ে চিংড়ি চাষের জন্য অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয়ের কাছে থাকা ১ লাখ ৯৫ হাজার একর জমি ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। জমির ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

১৯৯২ সালের চিংড়ি মহাল কমিটি পুনর্গঠন

চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ও কার্যকারিতা বাড়াতে ১৯৯২ সালের চিংড়ি মহাল কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো পুনর্গঠন এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, চিংড়ি খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। সরকারের লক্ষ্য শুধু রাজস্ব বৃদ্ধি নয়, এ খাতের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা ও স্বার্থ সুরক্ষাও নিশ্চিত করা।

নতুন খাজনা নির্ধারণ, অপরিশোধিত সুদ মওকুফ

চিংড়ি মহালের জন্য নতুন করে খাজনা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সভা। পাশাপাশি ইতোপূর্বের অপরিশোধিত সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, নতুন খাজনা নির্ধারণ, আইনি জটিলতা নিরসন এবং ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে। এতে সরকারি রাজস্ব আদায় কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি চাষিদের স্বার্থ সুরক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা

সভায় ভূমি সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজারের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন