একনেকে অনুমোদনের জন্য উঠতে পারে প্রস্তাব; প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ নালা নির্মাণ ও উন্নয়নে বরাদ্দ।
রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন ১০টি থানায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, নালা ও ফুটপাত সংস্কার এবং উন্নয়নে ৭১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামীকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্পের ব্যয় ৭১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের তৈরি প্রকল্প সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা কমানো এবং নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান বাড়ানো এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং ডিএসসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে ২১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা জোগানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারি অর্থায়নের মধ্যে ২৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ঋণ এবং ১৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে পাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রকল্পটির উদ্যোক্তা। বাস্তবায়ন করবে ডিএসসিসি। ২০২৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিন বছরে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নালা নির্মাণ ও উন্নয়নে ব্যয় প্রায় ৪৯৭ কোটি টাকা
প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে প্রস্তাবিত ব্যয়ের বিবরণ হলো—
- সড়ক উন্নয়ন: ২৮ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার, ব্যয় ১৪১ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
- নালা নির্মাণ ও উন্নয়ন: ৪৮ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার, ব্যয় ৪৯৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
- ফুটপাত উন্নয়ন: ৪৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার, ব্যয় ৪৬ কোটি ৬ লাখ টাকা।
- সড়ক বিভাজক সংস্কার: ৫ দশমিক ১৮ কিলোমিটার, ব্যয় ২ কোটি ৭ লাখ টাকা।
প্রস্তাবিত মোট ব্যয়ের প্রায় ৬৯ দশমিক ৫ শতাংশই নালা নির্মাণ ও উন্নয়নে খরচ হবে। এতে জলাবদ্ধতা নিরসনকে প্রকল্পের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিএসসিসির ১০ থানায় বাস্তবায়ন
ডিএসসিসির প্রশাসনিক অঞ্চল ১ থেকে ৫-এর আওতাধীন ১০টি এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। এলাকাগুলো হলো—ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, শাহবাগ, রমনা, পল্টন, শাহজাহানপুর, লালবাগ, বংশাল, যাত্রাবাড়ী ও মতিঝিল।
এসব এলাকায় সড়ক, নালা ও ফুটপাত উন্নয়নের মাধ্যমে যান চলাচল সহজ করা, পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
জলাবদ্ধতা ও সড়কের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্য
প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, রাজধানীতে জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ায় যানজট তীব্র হচ্ছে। অন্যদিকে ভারী বৃষ্টিতে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত নিকাশিব্যবস্থার অভাবে জলাবদ্ধতা বাড়ছে।
প্রকল্প সারসংক্ষেপে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিতে ঢাকা মহানগরের অধিকাংশ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপর্যাপ্ত নিকাশিব্যবস্থার কারণে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পথচারীদের নিরাপদে চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
নির্বাচিত এলাকাগুলোর সড়ক ও নিকাশিব্যবস্থার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক উল্লেখ করে কমিশন জানিয়েছে, এসব এলাকায় মাঝারি বৃষ্টিপাতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
সড়ক উন্নয়ন, নালা নির্মাণ ও ফুটপাত সংস্কারের মাধ্যমে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, নগর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান বাড়ানো প্রকল্পটির উদ্দেশ্য।
সমীক্ষা করেছে স্পিন কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস
প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করেছে স্পিন কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অননুমোদিত নতুন প্রকল্পের তালিকা বা ‘গ্রিন পেজে’ প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আগামীকাল একনেকের সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলে এর অনুমোদন ও পরবর্তী বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

