চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পরিবহনের পথে চুরি; ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ২৪ কার্টন ইলেকট্রনিকস সামগ্রী উদ্ধার।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পরিবহনের পথে কাভার্ড ভ্যান থেকে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিকস সামগ্রী চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তির হেফাজত থেকে চুরি হওয়া ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ২৪ কার্টন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও উদ্ধার করা মালামাল পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পল্টন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল ১,২৬০ কার্টন
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর চীন থেকে আমদানি করা মাইক্রোফোন, মাইক্রোফোন স্ট্যান্ড, টেলিপ্রম্পটার, সফট বক্স, মোবাইল ফোন হোল্ডারসহ মোট ১ হাজার ২৬০ কার্টন ইলেকট্রনিকস সামগ্রী চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়। মেসার্স আবেদিন এন্টারপ্রাইজের জন্য পাঠানো এসব মালামাল পরিবহনের দায়িত্বে ছিল ফিউচার প্লাস লজিস্টিকস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি। পুরো চালানের আনুমানিক মূল্য ছিল ৭০ লাখ টাকা।
পরদিন ৫ অক্টোবর রাত ২টা ৩৫ মিনিটে তিনটি কাভার্ড ভ্যান ঢাকার পুরানা পল্টনে মেসার্স আবেদিন এন্টারপ্রাইজের গোডাউনে পৌঁছায়। দুটি কাভার্ড ভ্যানের মালামাল ঠিক থাকলেও মো. রাবিউল নামের এক চালকের মাধ্যমে পাঠানো চট্টগ্রাম মেট্রো-ট-১১-৯২৯৭ নম্বরের কাভার্ড ভ্যানের মালামালে ঘাটতি পাওয়া যায়।
ওই কাভার্ড ভ্যানে ৪১০ কার্টন মালামাল থাকার কথা থাকলেও পাওয়া যায় ৩৪৩ কার্টন। বাকি ৬৭ কার্টন, যার আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকা, খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জিডির সূত্র ধরে সিআইডির অভিযান
এ ঘটনায় মেসার্স আবেদিন এন্টারপ্রাইজের মালিকের পক্ষ থেকে মো. কুতুব উদ্দিন মজুমদার পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ১১৯, তারিখ ২ নভেম্বর ২০২৬।
জিডির তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির একটি আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে পল্টন থানা পুলিশের সহযোগিতায় ২ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে মিরপুর থানাধীন দারুসসালাম রোডের পূর্ব পাশে মিসকো সুপার মার্কেটের ৪০ নম্বর দোকান হাসান এন্টারপ্রাইজের সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালানো হয়।
মিরপুরে অভিযান চালিয়ে সুজন হোসেনকে গ্রেপ্তার
অভিযানে মো. সুজন হোসেন (২১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী গ্রামের মো. গোলাম মোস্তফার ছেলে।
সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তির হেফাজত থেকে চুরি হওয়া ২৪ কার্টন ইলেকট্রনিকস সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৩ লাখ টাকা।
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও উদ্ধার করা মালামাল পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পল্টন থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পল্টন থানায় মামলা, তদন্ত অব্যাহত
মো. কুতুব উদ্দিন মজুমদারের দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে ৩ নভেম্বর পল্টন থানায় মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ০২। দণ্ডবিধির ৪০৭, ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, চুরি হওয়া অবশিষ্ট মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তও চলমান।

