পুরোনো গবেষণার মাঠ ফেরত দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন জোরদার; প্রতিদিন বেলা ১১টার পর ক্লাসেও অংশ নেবেন না শিক্ষার্থীরা।
পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণে দৃশ্যমান উদ্যোগ না নেওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা
সভা শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন করবেন তাঁরা। পাশাপাশি প্রতিদিন বেলা ১১টার পর কোনো ক্লাসেও অংশ নেবেন না।
আন্দোলন আরও জোরদার করার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
প্রশাসনের আইনি পদক্ষেপ নিয়ে অসন্তোষ
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ওয়াসিউল হাসান সরকার বলেন, আন্দোলন আরও বেগবান করতে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দিয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বলা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
গবেষণার মাঠ ফেরত চেয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন
পুরোনো গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করছেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা। মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাঁরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ, অবস্থান ও সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা এবং কৃষিবিষয়ক গবেষণার জন্য তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। তাঁদের আশঙ্কা, মাঠটি সচিবালয়ের কাজে ব্যবহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের পাশে সচিবালয় স্থাপিত হলে ভবিষ্যতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
মেলার স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা
এদিকে গত বুধবার পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নির্মাণাধীন দুটি মেলার স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
তবে গবেষণার মাঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

