শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে ব্যবসায়ী বুলবুল হত্যা: ৬ ঘণ্টার মধ্যে ১১ জন গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ব্যবসায়ী জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল (৪০) হত্যার ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করা বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে বন্দর থানার সালেহ নগর এলাকায় বুলবুলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বন্দর থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ২১ আগস্ট দায়ের করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুরোনো মামলার জেরে হত্যার অভিযোগ

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের খাবার সরবরাহ করেছিলেন ব্যবসায়ী বুলবুল। এ নিয়ে শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশ আরও জানায়, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই রাতে বন্দর থানার শাহী মসজিদ এলাকায় বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে হামলা ও চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অটোরিকশা, চার্জার ও ব্যাটারিসহ প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে বুলবুল বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা করেছিলেন। মামলাটি ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট নথিভুক্ত হয়।

পুলিশের দাবি, ওই মামলা দায়েরের পর থেকেই বুলবুলকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

বাড়ি ফেরার পথে হামলা

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন বুলবুল। রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে সালেহ নগরে তাহের আলী প্রধানের বাড়ির সামনের সড়কে পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তার গতিরোধ করে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ সিফাতের নেতৃত্বে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, রামদা, চাপাতি, সুইচ গিয়ার চাকু ও লোহার পাইপ দিয়ে বুলবুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে বুলবুলের ভাই স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাতেই অভিযান, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ১১

হত্যার খবর পাওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর তত্ত্বাবধানে অভিযান শুরু করে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর নেতৃত্বে পুলিশ লাইন্সের অতিরিক্ত ফোর্স ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।

একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘খ’ সার্কেল) দীপংকর ঘোষের তদারকিতে এবং বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।

পুলিশ জানায়, রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি শেখ সিফাতসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শেখ সিফাত (৩২), জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন, মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩), মো. সিয়াম (২৫), মোসা. মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) এবং সিজান ওরফে জিসান (২৬)।

দেশীয় অস্ত্র ও ওয়াকিটকি উদ্ধার

অভিযানে একটি ছ্যান দা, একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি স্টিলের চাপাতি, একটি লোহার পাইপ, প্লাস্টিকের বাটযুক্ত একটি স্টিলের ছুরি, একটি ওয়াকিটকি এবং চারটি এসএস পাইপসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার ও জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে আগে থেকে ১৪টি, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

পুলিশ আরও দাবি করেছে, শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

গ্রেপ্তার ১১ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন