শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

আদি বুড়িগঙ্গার প্রাণ ফেরাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

রাজধানীর আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের নাব্যতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দূরানী খাল ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন যৌথভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সেকশন ব্রিজসংলগ্ন আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের একটি অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

উদ্বোধনের আগে অভিযানে অংশ নেওয়া বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্টদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করে জলধারাটির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে চ্যানেল ও সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে নাব্যতা পুনরুদ্ধার এবং দুই পাশের পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

দখল-বর্জ্যে সংকুচিত প্রাচীন জলধারা

ঢাকার পুরোনো জলধারাগুলোর অন্যতম আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার। এর প্রায় এক হাজার ফুট অংশ দূরানী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় পড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য জমা ও দখলের কারণে চ্যানেলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রবের পাশাপাশি জলাবদ্ধতার সমস্যাও তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে রাজধানীকে বন্যা থেকে রক্ষায় ঢাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর আদি বুড়িগঙ্গার স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে পরিবর্তন আসে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে দখল ও বর্জ্য জমতে থাকায় জলধারাটির পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে চ্যানেলের সংশ্লিষ্ট অংশে দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।

নাব্যতা ফেরানোর পর সৌন্দর্যবর্ধন

বর্তমান উদ্যোগে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের খাল ও চ্যানেলে ময়লা না ফেলতে সচেতন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষ হলে চ্যানেলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার কাজ হাতে নেওয়া হবে। এরপর দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধন এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য ওয়াকওয়ে তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে আদি বুড়িগঙ্গাকে একটি পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব জলাধারে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নদী ও খালকে বর্জ্যমুক্ত রাখা জরুরি। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিডি ক্লিনের যৌথ উদ্যোগ সফল হলে স্থানীয় বাসিন্দারা এর সুফল পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শুধু বর্জ্য অপসারণ নয়, ভবিষ্যতে চ্যানেলটি যাতে আবার দখল ও দূষণের শিকার না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হবে। একই সঙ্গে জলধারায় বর্জ্য না ফেলে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা, নাব্যতা পুনরুদ্ধার ও পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে আদি বুড়িগঙ্গার পরিবেশগত গুরুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণ কমবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন