সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

‘সুপ্রভ কম্পোজিটের’ ঋণসীমা ১০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা করার পর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

অর্থ আত্মসাত ও ঋণ অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ (এস আলম) এবং ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।

সম্প্রতি ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী ব্যাংকের পক্ষে এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে একটি দুর্বল আর্থিক অবস্থার প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের ঋণসীমা বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ ঝুঁকিতে ফেলা এবং পরবর্তী সময়ে ঋণের অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

১০০ কোটি থেকে ঋণসীমা ৫০০ কোটি টাকা

দুদকে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই ঋণসীমার বিপরীতে অর্থ উত্তোলন করা হয় এবং সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইসলামী ব্যাংক।

ব্যাংকের পক্ষ থেকে দুদকে দেওয়া অভিযোগে ঋণ অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের পুরো প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সাহাবুদ্দিনসহ সাবেক এমডিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অভিযোগে তৎকালীন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. সাহাবুদ্দিনের নামও রয়েছে।

এ ছাড়া ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া ও মাহবুব উল আলম-এর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ব্যাংকের অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’-এর ঋণ অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ভূমিকা রেখেছিলেন। অনৈতিকভাবে ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। অভিযোগে যাদের নাম রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

এস আলমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ

ইসলামী ব্যাংকের অভিযোগে ব্যবসায়ী এস আলমের বিরুদ্ধেও গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেডের অনুকূলে অবৈধভাবে বড় অঙ্কের ঋণ বরাদ্দ পাইয়ে দিতে এস আলম ভূমিকা রেখেছেন।

ব্যাংকের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা ও ঋণ পরিশোধের সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকা সত্ত্বেও ঋণসীমা বড় অঙ্কে বাড়ানো হয়।

চার নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের তদন্ত

ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে দুদকে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, পুরো ঘটনার বিষয়ে চারটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তদন্ত করা হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ঋণ অনুমোদন, ঋণের অর্থ ছাড় এবং অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতি শনাক্ত হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকের দাবি, নিরীক্ষায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দুদকের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

তদন্তের মাধ্যমে বের হবে অর্থের গতিপথ

অভিযোগের মূল বিষয় এখন দুদকের তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তদন্তে ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা, ঋণের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে কারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হতে পারে।

বিশেষ করে ১০০ কোটি টাকার ঋণসীমা কী প্রক্রিয়ায় ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল এবং এর পেছনে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা অনিয়ম হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন