রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত, প্রার্থী চূড়ান্ত হবে ১১-দলীয় ঐক্যে

রোববার শীর্ষ বৈঠক ডেকেছে জোট | বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর

ঢাকা, ৮ আগস্ট ২০২৬:
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধী দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে রোববার ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত

শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

বৈঠকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংস্কার, ১১-দলীয় ঐক্য ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনার পর জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়।

১১-দলীয় বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিরোধী দলের প্রার্থী কে হবেন, তা ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।

এ কারণে রোববারের বৈঠককে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জোটের শরিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হতে পারে।

২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন।

সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাধারণ ভোটারদের সরাসরি ভোটে নয়, সংসদ সদস্যদের ভোটে অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির প্রার্থী বাছাইও আলোচনায়

এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি বিএনপির মধ্যেও আলোচনায় রয়েছে।

গত ১ আগস্ট বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

ফলে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

একাধিক নেতার নাম আলোচনায়

দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মহলে বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম রয়েছে।

এ ছাড়া নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামও আলোচনায় এসেছে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদকেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রাখছেন দলের কেউ কেউ।

তবে এসব নামের বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

দলীয় সূত্র বলছে, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং দল ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কার ভূমিকা কোথায় বেশি প্রয়োজন—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকাও আগের তুলনায় ছোট হয়ে এসেছে।

জোটের সমীকরণে গুরুত্ব

জামায়াতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ১১-দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এখন নজর রোববারের ১১-দলীয় শীর্ষ বৈঠকের দিকে। ওই বৈঠকে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে শেষ পর্যন্ত কাকে প্রার্থী করা হয়, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন