অনুসরণ করুন:
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

ভারতের মানবাধিকারকর্মী জস্বন্ত সিং খালরার নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ড আবারও আলোচনায়

ভারতের পাঞ্জাবে মানবাধিকারকর্মী জস্বন্ত সিং খালরার নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তিন দশক পরও আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি তার জীবন ও কর্মভিত্তিক নির্মিত চলচ্চিত্র Satluj মুক্তির পর এই বহুল আলোচিত মানবাধিকার ইস্যু নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে।

জস্বন্ত সিং খালরা ১৯৯০-এর দশকে পাঞ্জাবে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় নিখোঁজ হওয়া এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান চালান। তার দাবি ছিল, বহু ব্যক্তিকে আটক করার পর হত্যা করে ‘অজ্ঞাত’ বা ‘দাবিহীন’ মরদেহ হিসেবে দাহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ আদালতেও আবেদন করেন, যা দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।

১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাঞ্জাবের অমৃতসরে নিজ বাড়ির সামনে থেকে খালরাকে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি আর ফিরে আসেননি। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, তাকে হেফাজতে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় এবং তার মরদেহ গোপন করা হয়। যদিও তার দেহ আজও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

খালরার অনুসন্ধান পাঞ্জাবে ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের সহিংস রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে সম্পর্কিত। সে সময় খালিস্তান আন্দোলন দমনে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়।

খালরার নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রী পরমজিৎ কৌর খালরা দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু করেন। তার প্রচেষ্টার ফলে ঘটনাটির তদন্ত হয় এবং পরবর্তীতে খালরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সেই সময় নিখোঁজ হওয়া আরও বহু পরিবারের স্বজনদের ভাগ্য আজও অজানা রয়ে গেছে। তাদের মতে, এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, সত্য উদঘাটন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখনও গুরুত্বপূর্ণ একটি মানবাধিকার ইস্যু।

সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত Satluj চলচ্চিত্রে জস্বন্ত সিং খালরার জীবন, তার অনুসন্ধান এবং পাঞ্জাবের সেই অস্থির সময়ের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর বিষয়টি আবারও জনমনে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন