অনুসরণ করুন:
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

মানব পাচারকারীদের নতুন প্রতারণার কৌশল মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও অনলাইনের ভুয়া প্রলোভনকে কাজে লাগিয়ে পরিচালিত আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘ ভবনে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবস’ উপলক্ষে সারভাইভারদের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশিত আলোকচিত্র গ্রন্থ ‘লিসেন’ (LISTEN)-এর মোড়ক উন্মোচন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানব পাচার শুধু ব্যক্তির স্বাধীনতা ও মর্যাদাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি সমাজের ভিত্তিকেও দুর্বল করে দেয়। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার মোকাবিলায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা জোরদারে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, মানব পাচারের ভয়াবহতা শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়। ‘লিসেন’ গ্রন্থে উঠে আসা ভুক্তভোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি এবং মানব পাচার প্রতিরোধে জাতীয় অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করবে।

এ বছরের বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ট্র্যাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম’-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলো এখন মানুষকে বিদেশে নিয়ে অনলাইন প্রতারণা, সাইবার স্ক্যাম এবং দাসত্বমূলক শ্রমে বাধ্য করছে। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই ‘কাউন্টারিং সাইবার এনাবেল্ড হিউম্যান ট্রাফিকিং থ্রু টেকনোলজি’ শীর্ষক একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করবে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত পাচার কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা জোরদার করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মানব পাচারের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় কোনো একক দেশ বা সংস্থার পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সুশীল সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এ অপরাধ কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, কইকা (KOICA) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেসনিয়াক। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ডে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ‘লিসেন’ বাংলাদেশের মানব পাচারের শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত প্রথম তথ্যচিত্রভিত্তিক আলোকচিত্র গ্রন্থ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন