অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

শাহজালাল বিমানবন্দরের ট্রলি বিতর্ক: ভিডিওটি খণ্ডিত, নিরাপত্তা বিধিই বাস্তবায়ন করা হয়েছে—আনসার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর দাবি, প্রচারিত ভিডিওটি পুরো ঘটনার একটি খণ্ডিত অংশ, যা প্রকৃত ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট তুলে ধরে না।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ট্রলি নিতে বাধা, আনসারদের সঙ্গে প্রবাসীর স্বজনদের ধাক্কাধাক্কি’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে তাৎক্ষণিক অনুসন্ধান চালানো হয়।

অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে বাহিনী জানায়, গত ২৮ জুলাই বিকেলে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকার বহির্গেট দিয়ে কয়েকজন প্রবাসীর স্বজন নিয়মবহির্ভূতভাবে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা বিমানবন্দরের প্রচলিত নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী তাদের প্রবেশে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরে সংশ্লিষ্ট যাত্রী বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় পৌঁছানোর পর তাঁর স্বজনরা বিমানবন্দরের ট্রলি নির্ধারিত সীমার বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রলি নির্ধারিত এলাকার বাইরে নেওয়া নিষিদ্ধ থাকায় দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাদের বাধা দেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ট্রলি ব্যবহার না করে নিজেদের মালামাল বহন করে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

আনসারের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত থাকায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা পুরো ঘটনায় ধৈর্য, সংযম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কোনো উসকানির মুখেও তারা প্রচলিত নিরাপত্তা বিধি বাস্তবায়নের বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেননি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি একটি মহল বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ঘটনার অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে বলে তাদের ধারণা।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সময় তাদের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নিরাপত্তা নির্দেশিকা, নীতিমালা ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করেন।

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস বা প্রচার না করার আহ্বান জানিয়ে বাহিনী বলেছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিধি-বিধান মেনে চলা এবং দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন