অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

কেরাণীগঞ্জে কিশোরী হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি পিবিআইয়ের, গ্রেপ্তার ১

রাজধানীর কেরাণীগঞ্জে এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র, নিহতের দুটি মোবাইল ফোন এবং কিছু অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই ঢাকা জেলা জানায়, নিহত তানজিলা (১৭) গত ২৭ জুলাই দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে খালার বাসা থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার মদিনানগর এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে গলাকাটা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পিবিআই ঢাকা জেলা মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ২৯ জুলাই ভোরে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে মো. রানা হাওলাদার (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইর দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি, নিহতের দুটি স্মার্টফোন এবং কিছু অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

তদন্তকারী সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তি অটোরিকশাচালক এবং নিহতের সঙ্গে তাঁর কয়েক মাসের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন তিনি কিশোরীকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যান এবং সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে পিবিআই দাবি করেছে। পরে নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও কিছু অলংকার নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম. এন. মোর্শেদ বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরই ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু করা হয়। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় অল্প সময়ের মধ্যেই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

তবে এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

উল্লেখ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে তাঁকে আইনগতভাবে দোষী বলা যাবে না।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন