অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রেমিট্যান্স বাড়াতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ

ঢাকা, ২৩ জুলাই ২০২৬: দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো, হুন্ডির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক তাৎক্ষণিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা (IIPS) গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) এবং গেটস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক তাৎক্ষণিক পেমেন্ট ব্যবস্থা (IIPS) এবং আন্তঃসীমান্ত রেমিট্যান্স’ বিষয়ক এক কর্মশালায় বক্তারা এ বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখনও অনেক প্রবাসী, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা, আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিবর্তে অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে অর্থ পাঠান। এ প্রবণতা কমাতে সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি উৎপাদনশীল খাতে রেমিট্যান্স বিনিয়োগে উৎসাহমূলক নীতির প্রয়োজন রয়েছে।

পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার বলেন, একটি আন্তঃপরিচালনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম চালু হলে ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবাদাতার মধ্যে লেনদেন আরও সহজ ও কম ব্যয়বহুল হবে। এর ফলে বৈধ চ্যানেলে বিদেশ থেকে অর্থ পাঠানো আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে এবং হুন্ডির ব্যবহার কমতে পারে।

গবেষণার বিষয়ে পিআরআইয়ের পরিচালক ড. এম. এ. রাজ্জাক জানান, কোন কারণে প্রবাসীরা আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল বেছে নেন, তা নিয়ে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী গন্তব্য দেশে জরিপ পরিচালনা করা হবে। গবেষণার মাধ্যমে ডিজিটাল রেমিট্যান্স ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতাগুলোও চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. এজাজুল ইসলাম বলেন, আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা শুধু লেনদেনের ব্যয় কমাবে না, বরং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা এবং কর-অনুগত্য বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ জাহিদ ইকবাল জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক উন্মুক্ত প্রযুক্তিভিত্তিক একটি ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্যাংক, পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে পিআরআইয়ের সম্মাননীয় ফেলো ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর বলেন, নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় বিপুল ব্যয় কমাতে ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার অপরিহার্য। একই সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ দেশে আকৃষ্ট করার জন্য কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণেরও প্রয়োজন রয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা অভিমত দেন, কম খরচে, নিরাপদ ও আন্তঃপরিচালনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা গেলে বৈধ রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ এবং দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাতের আধুনিকায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন