অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

একনেকে উঠছে ২ হাজার ৮২ কোটি টাকার ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান’ প্রকল্প

ঢাকা, ২১ জুলাই: দেশের গ্রামীণ সড়কগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রায় ২ হাজার ৮২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

বুধবার অনুষ্ঠিতব্য একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রকল্পটি বিবেচনা করা হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’ বাস্তবায়িত হলে দেশের ৬৪ জেলার ৪৯৫ উপজেলায় প্রায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবারপ্রধান ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দরিদ্র নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা তাদের পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, অতীতে বাস্তবায়িত গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির ইতিবাচক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নতুন এ প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বড় পরিসরে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম না হওয়ায় দেশের গ্রামীণ সড়কগুলোকে টেকসইভাবে সচল রাখতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষিজাত ও অ-কৃষিজাত পণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নারীদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের আওতায় দেশের আটটি বিভাগের নির্বাচিত এলাকায় জলবায়ু ঝুঁকি, দারিদ্র্য এবং পরিবেশগত ঝুঁকির মতো সূচক বিবেচনায় কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের মতে, এটি সরকারের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ উন্নয়নের নীতিগত লক্ষ্য এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৫২২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৫১৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৫১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে ৫২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) বাস্তবায়ন সময়সূচি, ক্রয় প্রক্রিয়া, পরিচালন ব্যয়, প্রকল্প-পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা এবং অন্যান্য উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে কয়েকটি শর্ত যুক্ত করে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, হাজারো দরিদ্র নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন