ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে ১ নভেম্বর কংগ্রেসের কর্মসূচি; ৪০-৫০ হাজার মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা, নিরাপত্তায় প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আগামী ১ নভেম্বর ‘চলো দিল্লি রামলীলা মার্চ’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আয়োজিত এ কর্মসূচিকে গণতন্ত্র রক্ষা, ভোট চুরি বন্ধ এবং সংবিধান সুরক্ষার আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশ ও লাঠিচার্জ নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাহুল দাবি করেছেন, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কোনো ধরনের ‘কৌশল’ প্রয়োগের সাহস পাবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) হিন্দি ও ইংরেজিতে দেওয়া পোস্টে রাহুল বলেন, এ মিছিল কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য নয়, বরং ভারতের আত্মাকে রক্ষার জন্য।
গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কর্মকাণ্ডে যারা ক্ষুব্ধ, তাঁদের সবাইকে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা করতে চান—এমন ব্যক্তিদেরও মিছিলে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
রাহুল বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে মিছিলে আসুন। সংবিধান রক্ষা করতে, ভারতীয় রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা একসঙ্গে হাঁটব।’
শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন ভারত কিংবা তাঁর নিজের মতপ্রকাশ, চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি হুমকির মুখে, তাহলে তাঁর এই মিছিলে যোগ দেওয়া উচিত। ভারতের আত্মাকে রক্ষার এ কর্মসূচিতে সবার উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন তিনি।
রাহুলের এসব বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিজেপি কিংবা পুলিশের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রামলীলা ময়দান ঘিরে পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে এ সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভকারীরা যাতে দিল্লির যন্তর মন্তরসহ নিষিদ্ধ এলাকায় মিছিল নিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।
একসময় দিল্লিতে বিক্ষোভ-সমাবেশের নির্ধারিত স্থান ছিল যন্তর মন্তর। তবে সেটিকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে শহরের তিনটি নতুন স্থানকে সমাবেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর কয়েক মাস আগে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের আগে সংসদ অভিমুখে মিছিলে পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছিল।
চলতি মাসে দিল্লিতে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং এসআইআর বাতিলের দাবি জানান। ওই বিক্ষোভ ঘিরে কর্তৃপক্ষ মেট্রো চলাচল বন্ধ, ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন ও নিষেধাজ্ঞা জারির মতো পদক্ষেপ নেয়। পাশাপাশি প্রায় ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।
সমাবেশে ৪০-৫০ হাজার মানুষের উপস্থিতির ধারণা
সমাবেশ ঘিরে দিল্লি পুলিশের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পরিকল্পনায় রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে রামলীলা ময়দানের একটি ফটক নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
সমাবেশস্থল ও আশপাশে প্রায় তিন হাজার দিল্লি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। নজরদারির জন্য স্থাপন করা হবে প্রায় ১৫০টি উচ্চ রেজল্যুশনের (এইচডি) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসক্ষম (এআই) সিসিটিভি ক্যামেরা। ক্যামেরার সরাসরি ভিডিও পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে সমাবেশস্থলের কাছে অস্থায়ী পুলিশ নিয়ন্ত্রণকক্ষও স্থাপন করা হবে।
নিরাপত্তাকর্মীদের অধিকাংশের শরীরে থাকবে বডি ক্যামেরা। দায়িত্ব পালনের সময় এসব ক্যামেরায় আশপাশের কর্মকাণ্ড ধারণ করা হবে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, হয়রানি বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠলে ভিডিওগুলো প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ধারণা, রাজধানীসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মানুষ সমাবেশে যোগ দিতে পারেন।
রামলীলা ময়দানে প্রবেশ ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা
প্রায় ১২ একর আয়তনের রামলীলা ময়দানে একসঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে। মাঠটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আটটি ফটক রয়েছে। এর মধ্যে একটি ফটক রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য সংরক্ষিত থাকবে। অন্য একটি ফটক দিয়ে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা চলাচল করবেন।
সমাবেশে আসা ব্যক্তিদের জন্য রাজঘাট ও মাতা সুন্দরী কলেজের আশপাশে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। সেখান থেকে হেঁটে রামলীলা ময়দানে যেতে হবে তাঁদের। তবে কাউকে নয়াদিল্লি এলাকার দিকে যেতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

