ফ্রান্স-জার্মানির যৌথ উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর ব্রিটেন, জাপান ও ইতালির নেতৃত্বাধীন প্রকল্পে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা; সিদ্ধান্ত নিতে জার্মানির আলোচনা
ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ যুদ্ধবিমান তৈরির প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার পর ব্রিটেন, জাপান ও ইতালির নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়ে পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরিতে অংশ নিতে পারে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গিয়োম ফোরি বুধবার এ সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ প্রকল্পে জার্মানি ও স্পেনের প্রতিনিধিত্ব করেছিল এয়ারবাস। যুদ্ধবিমানের নকশা নিয়ে মতবিরোধের কারণে প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়। ফোরি জানান, জার্মান সরকার এখন সম্ভাব্য অংশীদারত্ব নিয়ে অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনলাইন আলোচনায় এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী বলেন, ব্রিটেন, জাপান ও ইতালির সঙ্গে গ্লোবাল কমব্যাট এয়ার প্রোগ্রামে (জিসিএপি) যোগ দেওয়া একটি সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে। তবে এ ছাড়া আরও বিকল্প রয়েছে।
২০৩৫ সালের মধ্যে যুদ্ধবিমান যুক্ত করার লক্ষ্য
ব্রিটেন, জাপান ও ইতালি ২০৩৫ সালের মধ্যে নতুন যুদ্ধবিমানটি সামরিক বাহিনীতে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এ প্রকল্পে ইতোমধ্যে তিন দেশ ৫৫০ কোটি ডলারের বেশি বরাদ্দ দিয়েছে। কানাডা পর্যবেক্ষক হিসেবে কর্মসূচিটিতে যোগ দিয়েছে।
জিসিএপিতে এয়ারবাস যুক্ত হলে ইউরোপের পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির ক্ষেত্রে নতুন অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইউরোপের জন্য যৌথ উদ্যোগের পক্ষে এয়ারবাস
ফোরি বলেন, পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এয়ারবাস জার্মানি ও স্পেনের সরকারের সঙ্গে কাজ করছে এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছে।
তিনি বলেন, ‘পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আমরা জার্মান ও স্পেনের সরকারের সঙ্গে কাজ করছি এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছি। এই যুদ্ধবিমান অবশ্যই ইউরোপে এবং ইউরোপের জন্য তৈরি হতে হবে।’
এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী আরও বলেন, ‘মূলত, এয়ারবাস এখনো বিশ্বাস করে যে ইউরোপে যৌথ সহযোগিতার ভিত্তিতে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করা প্রয়োজন। আমরা ইউরোপের জন্য সেই সমাধানের অংশ হতে চাই।’
ফোরির মতে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর। খুব বেশি দেরি না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ফ্রান্স-জার্মানির প্রকল্প কেন ব্যর্থ হলো
ফ্রান্স ও জার্মানির যৌথ যুদ্ধবিমান তৈরির উদ্যোগ গত জুনে ভেস্তে যায়। প্রকল্পে ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান দাসো অ্যাভিয়েশন যুদ্ধবিমানের নকশা নিয়ে এয়ারবাস ও জার্মান সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
এরপর দাসো ফরাসি রাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে একক উদ্যোগে যুদ্ধবিমান তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। নতুন বিমানটি ফ্রান্সের বর্তমান রাফাল যুদ্ধবিমানের স্থলাভিষিক্ত হবে।
ফ্রান্স-জার্মানির উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর ইউরোপের পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরিতে কী ধরনের সহযোগিতার কাঠামো গড়ে উঠবে, তা এখন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।

