বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ইরান যুদ্ধে অস্ত্রের মজুত পূরণেই লাগবে ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি

জুলাইয়ের হিসাবের চেয়ে ব্যয় বেড়েছে ২৫ শতাংশের বেশি; অস্ত্রের মজুত পূরণ ও সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনেই লাগবে আরও বিপুল অর্থ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে প্রকাশ করা ব্যয়ের তুলনায় নতুন অঙ্ক ২৫ শতাংশেরও বেশি। তবে এই হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

ব্যয়ের হিসাব সম্পর্কে মন্তব্য জানতে পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধের ব্যয় বাড়ার এই তথ্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান দল যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে।

যুদ্ধের ব্যয়ের চাপ, চাপে রিপাবলিকানরা

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওপর যুদ্ধের প্রভাব রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রতি জনসমর্থন কমিয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হারও কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে দুই কক্ষেই তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সামান্য। ফলে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অস্ত্রের মজুত পূরণেই লাগবে ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি

পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাব মূলত যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এতে যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হবে বলে অনুমান করা হয়েছে।

এ ছাড়া সামরিক সরঞ্জাম এবং যুদ্ধে হারানো বিভিন্ন সামরিক যান ও আকাশযান প্রতিস্থাপনে ছয় বিলিয়ন ডলারের বেশি লাগতে পারে। এসব ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে যুদ্ধ চলাকালে হারানো বহু চালকবিহীন আকাশযানও রয়েছে।

গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ যুদ্ধের ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছিলেন। নতুন হিসাব অনুযায়ী, ব্যয় তার চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।

যুদ্ধের শুরুতে দ্রুত বিজয়ের আশা করেছিলেন ট্রাম্প

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। সে সময় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সংঘাত অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হবে।

যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন সামরিক কৌশল ছিল ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা। এরপর তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে আকাশযান থেকে নিক্ষেপযোগ্য জেডিএএম ধরনের সাধারণ মহাকর্ষীয় বোমাও ছিল, যেগুলোর পর্যাপ্ত মজুত যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির পর ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুনরায় সক্রিয়

এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান সময় পায়। এই সময়ে দেশটি ভূগর্ভস্থ অস্ত্রের গুদাম থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর ফলে ইরানের কিছু প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। পাশাপাশি আগে নাগালের বাইরে থাকা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযানও পুনরায় ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠে।

এরপর ইরানের তেল রপ্তানি থেকে আয় বন্ধ করার উদ্দেশ্যে দেশটির ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনার কথাও বলেছেন তিনি।

নতুন অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্দেশ দেওয়া হলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবারও শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন।

পেন্টাগনের ব্যয়ের হিসাবে বিমান পরিচালনা থেকে শুরু করে সাইবার সহায়তা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের পরিচালন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযানের হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো মেরামতের সম্ভাব্য বিপুল ব্যয় হিসাবটিতে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

ফলে অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন, হারানো সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন এবং ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের প্রকৃত ব্যয় আরও বাড়তে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন