ঝালকাঠিতে মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে ৬ লাখ ৪৩ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগ। এ সময় ১২০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২৬ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা।
গত ৮ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার চার উপজেলায় পরিচালিত এসব অভিযানে চারজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা অমান্যসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধে সাতটি মামলা করা হয়েছে।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ১৮ দিনে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে জেলার কাঁঠালিয়া, ঝালকাঠি সদর, নলছিটি ও রাজাপুর উপজেলায় মোট ২৮০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ৫৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযানের অংশ হিসেবে দুটি মাছ অবতরণকেন্দ্র, ৪৯ বার মাছঘাট, ৪১৩ বার আড়ত এবং ২০৪ বার বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে নদ-নদী ও মাছের বেচাকেনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
উপজেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ দিনে নলছিটিতে সর্বোচ্চ ৭৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ছাড়া ঝালকাঠি সদরে ৬৯টি, কাঁঠালিয়ায় ৬৬টি এবং রাজাপুরে ৭০টি অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে কাঁঠালিয়ায় সর্বোচ্চ ৮২ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে ঝালকাঠি সদরে ১৮ কেজি, নলছিটিতে ১২ কেজি এবং রাজাপুরে আট কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে চার উপজেলায় জব্দ করা ইলিশের পরিমাণ ১২০ কেজি।
অবৈধ জাল উদ্ধারের ক্ষেত্রেও উপজেলাভেদে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পাওয়া গেছে। নলছিটিতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮০০ মিটার জাল জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ঝালকাঠি সদরে ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ মিটার, কাঁঠালিয়ায় ১ লাখ ১৭ হাজার ২০০ মিটার এবং রাজাপুরে ১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ মিটার জাল উদ্ধার করা হয়েছে।
মৎস্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, কাঁঠালিয়ায় জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা। ঝালকাঠি সদরে জব্দ করা জালের মূল্য ৩৫ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা, নলছিটিতে ৩৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং রাজাপুরে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
চার উপজেলায় জব্দ করা জালের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২৬ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা। অবৈধভাবে ইলিশ শিকার বন্ধ এবং প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযান চলাকালে নিষেধাজ্ঞা অমান্যসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধে মোট সাতটি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঝালকাঠি সদরে তিনটি, নলছিটিতে দুটি এবং রাজাপুরে দুটি মামলা হয়েছে।
এ ছাড়া নলছিটি ও রাজাপুরে দুজন করে মোট চারজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) বলেন, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রজনন সুরক্ষার স্বার্থে জেলেসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীসহ দেশের নির্ধারিত নদ-নদী ও জলসীমায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নিয়মিত অভিযান, অবৈধ জাল জব্দ এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

