নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলার সাইনবোর্ড এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক নারী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের স্নাতকোত্তর (এমফার্ম) শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে স্বামীর ভাড়া বাসা থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নাজমুলও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।
নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ফারজানাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলাম। নির্যাতনের কারণে গত বছরের ডিসেম্বরে ফারজানা স্বামীর সংসার ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এ সময় তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক বিরোধের পর দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা ও মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একপর্যায়ে সমঝোতা হলে মামলাটি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও শুরু হয়।
ফারজানার স্বজনদের দাবি, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে পরিবারের এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশও এখন পর্যন্ত মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যা বা আত্মহত্যা হিসেবে নিশ্চিত করেনি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফতুল্লা থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী নাজমুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনের কারণ ও মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের ফলাফল পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের পর নির্যাতনের অভিযোগ, আগের মামলা এবং সমঝোতার পর মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি উঠেছে।
তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য ময়নাতদন্ত, ঘটনাস্থলের আলামত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করা জরুরি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
ফারজানার মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

