নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নগরবাসীর নিরাপত্তা ও পুলিশি সেবা আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বর্তমানে চারটি থানার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ভবিষ্যতে আরও চারটি থানা যুক্ত করে মোট আটটি থানার মাধ্যমে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিএমপি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নগরায়ণ ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে নগরীতে যানজটের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণতাও বাড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ চারটি থানার মাধ্যমে নগরবাসীকে সেবা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে থানার সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ যাতে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে জন্য নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিএমপি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নগরবাসীকে পুলিশি সেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে চারটি থানার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, নগরবাসীর কাছে পুলিশি সেবা আরও সহজলভ্য করতে ভবিষ্যতে নতুন চারটি থানা যুক্ত করে মোট আটটি থানার মাধ্যমে বিএমপির কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাবনা রয়েছে।
থানার সংখ্যা বাড়ানো হলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের সেবা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে নতুন থানাগুলো কবে চালু হবে, সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তারা নগরায়ণের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যানবাহনের সংখ্যা বাড়া এবং নগরীর পরিধি সম্প্রসারণের ফলে পুলিশের দায়িত্বও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে অপরাধ প্রতিরোধ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্যে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি জুলফিকার আলী হায়দার, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি-৮) অধিনায়ক মোহাম্মদ জাকিউল করিম, উপপুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল হান্নান ও সুশান্ত সরকার উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, সহসভাপতি হুমায়ুন কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে কেক কাটার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের পুলিশি সেবা প্রদানে সংস্থাটি দায়িত্ব পালন করে আসছে।
বর্তমানে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পুলিশ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। ভবিষ্যতে থানার সংখ্যা চারটি থেকে আটটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর কাছে পুলিশি সেবা সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নগরীর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশি সেবার পরিধি বাড়ানোর প্রত্যাশার বিষয়টি উঠে এসেছে।

