গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ; চলতি অর্থবছরের সাড়ে তিন মাসে এসেছে প্রায় ৯৮৮ কোটি ডলার
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে ১২৯ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১১৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১২ দিনে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার বেশি। প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
১২ অক্টোবর একদিনে এসেছে ১২ কোটি ৪০ লাখ ডলার
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর একদিনেই দেশে ১২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। মাসের প্রথম ১২ দিনের মোট প্রবাসী আয়ের মধ্যে ওই দিনের অর্থও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতেও রেমিট্যান্সের পরিমাণ বাড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে পুরো মাসের রেমিট্যান্সের পরিমাণ নির্ভর করবে পরবর্তী দিনগুলোতে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর ধারার ওপর।
চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৯৮৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৮৭৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দেশে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১১১ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা শতকরা হিসাবে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বহু পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়, ভোগ ও সঞ্চয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে কাজ করে।
অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের গুরুত্ব
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ মোকাবিলা, আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম সাড়ে তিন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রবাসী আয়ের এই ধারা অর্থনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে রেমিট্যান্সের সামগ্রিক প্রভাব মূল্যায়নে বৈদেশিক মুদ্রার অন্যান্য আয়-ব্যয়, আমদানি ব্যয় এবং চলতি হিসাবের অবস্থাও বিবেচনায় নিতে হয়।

