২০ থেকে ২৪ অক্টোবর বিশেষ ট্রেন চলবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে; অতিরিক্ত কোচ সংযোজন, নিরাপত্তা জোরদার ও সময়ানুবর্তিতা রক্ষায় রেলওয়ের বিশেষ প্রস্তুতি
আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঘরমুখী যাত্রীদের সুবিধাজনক ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। একই সঙ্গে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে পাঁচটি ট্রেনের সাপ্তাহিক বিরতি বা অফ-ডে প্রত্যাহার করা হয়েছে। উৎসবের সময়ে যাত্রীসেবা নির্বিঘ্ন রাখা, ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা জোরদারে নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ।
আজ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সভাপতিত্ব করেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিশেষ ট্রেন
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা স্পেশাল-৩ আগামী ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে চলাচল করবে। ট্যুরিস্ট স্পেশাল-১ ও ট্যুরিস্ট স্পেশাল-২ আগামী ২০, ২৩ ও ২৪ অক্টোবর ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা রুটে চলবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম স্পেশাল-৪ আগামী ২৪ অক্টোবর ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করবে।
দুর্গাপূজার ছুটিতে যাত্রীদের বাড়তি যাতায়াতের চাহিদা পূরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে চাপ কমাতে বিশেষ ট্রেন পরিচালনার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাঁচ ট্রেনের সাপ্তাহিক বিরতি প্রত্যাহার
যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে পূর্বাঞ্চলের কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ১৯ ও ২০ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ও রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসের ১৯ অক্টোবর, পদ্মা এক্সপ্রেসের ২০ অক্টোবর এবং মধুমতি এক্সপ্রেসের ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বিরতিও বাতিল করা হয়েছে।
এর ফলে নির্ধারিত দিনগুলোতে এসব ট্রেন চলাচল করবে এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।
যাত্রীসেবায় যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত কোচ
পূজা উপলক্ষে বাড়তি যাত্রী চাহিদা মেটাতে পূর্বাঞ্চলে ২৩টি মিটারগেজ কোচ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ছয়টি ব্রডগেজ কোচ যাত্রীবাহী ট্রেনে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ইঞ্জিনের সরবরাহ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, অতিরিক্ত কোচ ও ইঞ্জিনের ব্যবস্থা করে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং উৎসবের সময় যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো।
সময়সূচি ঠিক রাখতে নিবিড় তদারকি
ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় কমানো ও সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন এবং সিগন্যাল কেবিনে কর্মকর্তা ও পরিদর্শকদের নিবিড় তদারকিতে ট্রেন পরিচালনা করা হবে। ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী পরিস্থিতি দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে রেলপথের ট্র্যাক ও সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেট্রোলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিগন্যালিং ব্যবস্থা, কোচ ও ইঞ্জিনের নিবিড় পরিচর্যার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রিলিফ ট্রেনগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে।
স্টেশন ও ট্রেনে নিরাপত্তা জোরদার
উৎসবের সময়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা, ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনাসহ দেশের সব প্রধান রেলস্টেশনে জিআরপি ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক পাহারা জোরদার করা হয়েছে।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে আগামী ১৯ ও ২০ অক্টোবর ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে।
চলন্ত ট্রেন, স্টেশন ও রেললাইনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আরএনবি, জিআরপি এবং রেলওয়ের কর্মচারীদের নজরদারি ও কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তুতিমূলক সভায় সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি
সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সেতু বিভাগ ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকা ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সভায় অংশ নেন।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রেলপথে যাত্রীচাপ বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ ট্রেন পরিচালনা, অতিরিক্ত কোচ সংযোজন, সময়ানুবর্তিতা রক্ষা এবং নিরাপত্তা জোরদারের এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

