রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ,সিসিটিভি ফুটেজে দুইজনকে খুঁজছে পুলিশ

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয় এবং অন্যটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় পাওয়ার পর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেটি নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন আগারগাঁও লিংক রোডে এ ঘটনা ঘটে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাত আড়াইটার দিকে ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসে। সেখানে দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করে আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর তারা দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হলেও অন্যটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকে।

পরে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অবিস্ফোরিত ককটেলটি উদ্ধার করে। সেটি নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অবিস্ফোরিত বস্তুটিতে কোনো স্প্লিন্টার বা ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়নি। বস্তুটি অনেকটা আতশবাজির মতো ছিল বলে জানান উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান।

সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ

ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক দল তদন্ত শুরু করে। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ককটেল নিক্ষেপের পর সন্দেহভাজনরা আগারগাঁও হয়ে কাফরুল রোডের দিকে পালিয়ে যায়। তবে তাদের পরিচয় ও পালিয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট পথ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।

ঘটনার সময় আশপাশের দোকানপাট ও অন্যান্য স্থাপনা বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সব সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। সকালে দোকানপাট ও স্থাপনাগুলো খুললে সংশ্লিষ্ট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যা বলছে পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনার সামনে এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান বলেন, সন্দেহভাজনরা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেতে প্রধান সড়কের পরিবর্তে সংযোগ সড়ক ব্যবহার করেছিল। তাঁর মতে, প্রধান সড়ককেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প পথ ব্যবহার করেই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন